
দেশে প্রথম চাকা গড়াল হাইড্রোজেন ট্রেনের। অত্যাধুনিক এই ট্রেনের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নীল রঙের হলেও এই ট্রেন আসলে 'গ্রিন'। অর্থাৎ ইকো ফ্রেন্ডলি পদ্ধতিতে ছুটবে এই রেলগাড়ি।

এটি বিশ্বের দীর্ঘতম এবং সবচেয়ে শক্তিশালী হাইড্রোজেন চালিত ব্রডগেজ ট্রেন। ইতিমধ্যেই এর ট্রায়াল রান সম্পন্ন হয়েছে। এবার যাত্রী নিয়ে ট্র্যাকে ছুটবে এটি।

হাইড্রোজেনকে বিশ্বের অন্যতম ‘পরিচ্ছন্ন জ্বালানি’ হিসেবে ধরা হয়। তাই ইকো-ফ্রেন্ডলি পরিবহণের দুনিয়ায় নতুন দিশা খুলে যেতে চলেছে এই হাইড্রোজেন ট্রেনের হাত ধরে।

কোনও ধোঁয়া বা ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হয় না হাইড্রোজেন ট্রেন থেকে। বেরয় শুধু জলীয় বাষ্প। কার্বন নিঃসরণ প্রায় শূন্য বললেই চলে।

জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান ও চিনের মতো দেশে ট্রেন-বাস চলছে হাইড্রোজেনে। সেই তালিকায় এবার নবতম সংযোজন ভারত। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হয়েছে এই হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। রেল বোর্ডের তরফে এই প্রকল্পের নাম দেওয়া হয়েছে ‘Hydrogen for Heritage’।

হরিয়ানার জিন্দ থেকে সোনিপত পর্যন্ত ৮৯ কিলোমিটার রুটে চলবে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন। পথে পান্ডু পিন্দারা জংশন, ললিত খেরা হল্ট, ভামভেওয়া, ইসাপুর খেরি হল্ট, বুটানা হল্ট, খান্দরাই হল্ট, রাবরাহ হল্ট, লাথ হল্ট, মোহানা এবং বারওয়াসনি হল্ট-সহ একাধিক স্টেশনে থামবে।

ভারতীয় রেলওয়ে জানিয়েছে, এই রুটে সফল যাত্রার পরে কালকা-শিমলা রুটেও চালু হতে পারে হাইড্রোজেন চালিত ট্রেন।

২৪০০ কিলোওয়াটের ইঞ্জিন নিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৭৫ কিমি বেগে ছুটতে পারবে এই হাইড্রোজেন ট্রেন। সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ১১০ কিলোমিটার।শুধু গতি নয়, ট্রেনের ডিজাইন ও পরিষেবাতেও রয়েছে চমক। থাকছে দু’টি হাইড্রোজেন ড্রাইভিং পাওয়ার কার এবং আটটি যাত্রিবাহী কোচ। ২ হাজার ৬০০ জন যাত্রী নিয়ে মোট ১০টি কোচ ছুটবে।

এই অত্যাধুনিক ট্রেনের ভাড়া মাত্রা ৫ টাকা। সর্বোচ্চ ভাড়া হবে ২৫ টাকা। IRCTC-র ওয়েবসাইট থেকে ও রেলের কাউন্টার থেকে এই ট্রেনের টিকিট কাটা যাবে।