
মহারাষ্ট্রে তিনি 'দাদা' নামেই পরিচিত। শরদ পাওয়ারের ভাইপো হলেও মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নিজের পরিচিতি ব্যাপক ভাবেই গড়ে তুলেছিলেন অজিত। মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মোট ৬ বার।

আজ অর্থাত্ বুধবার সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে ভেঙে পড়ে মহারাষ্ট্রের উপমুখ্যমন্ত্রী অজিত পাওয়ারের চার্টার ফ্লাইট। অজিত পাওয়ার সহ কোনও যাত্রীই বেঁচে নেই।

DGCA জানিয়েছে, মহারাষ্ট্রের বরামতির কাছে জরুরি অবতরণের চেষ্টা করছিলেন পাইলট, যাতে বাঁচানো যায়, কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। ভেঙে পড়ার পরেই মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানে। জ্বলছে, পুড়ে যান যাত্রীরা।

অজিত পাওয়ারের ঝলসানো দেহ নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। সেখানে তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন ডাক্তাররা। লিয়ারজেট ৪৫ মডেল-এর ভিটি-এসএসকে চার্টার বিমান ছিল।

মহারাষ্ট্রের বরামতিতে একটি জনসভায় ভাষণ দিতে যাচ্ছিলেন অজিত পাওয়ার। অজিত পাওয়ার ছাড়াও মৃত্যু হয়েছে দুই পাইলট ও পাওয়ারের দুই নিরাপত্তারক্ষীর।

জেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারে যোগ দিতে বুধবার সকালে মুম্বই থেকে বারামতির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন এনসিপি নেতা অজিত পাওয়ার।

অবতরণের সময়ে আচমকা বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন পাইলট, যার জেরেই সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে রানওয়ের কাছে ভেঙে পড়ে বিমানটি।

১৯৫৯ সালের ২২ জুলাই জন্মগ্রহণ করেছিলেন অজিত পাওয়ার। যেহেতু মহারাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম, তাই ছেলেবেলা থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি।

শরদ পাওয়ারের দাদা অনন্তরাওয়ের ছেলে অজিতও বেছে নেন রাজনীতিই। শরদ পাওয়ারের আদর্শেই গড়ে ওঠে তাঁর রাজনৈতিক আদর্শ।

অজিত পাওয়ার কার্যত কিশোর বয়স থেকেই রাজনীতিতে চলে যান। যার নির্যাস, মাধ্যমিক পর্যন্তই পড়াশোনা করেন।

যেহেতু শরদ পাওয়ার তখন ইতিমধ্যেই কংগ্রেসে বড় নেতা, তাই রাজনৈতিক কেরিয়ারে নিজেকে মেলে ধরতে বিশেষ স্ট্রাগল করতে হয়নি অজিতকে।

মাত্র ২৩ বছর বয়সেই বরামতিতে চিনির কারখানায় কোঅপারেটিভ বোর্ডের মেম্বার হয়ে যান। এটাই অজিতের প্রথম ভোটে জয়।

১৯৯১ সালে বরামতি থেকেই লোকসভায় নির্বাচিত হন অজিত পাওয়ার। এটাই সংসদীয় রাজনীতিতে প্রথম জয় তাঁর। তবে তারপরে আর লোকসভায় লড়াই করেননি তিনি। একেবারে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে পড়েন মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে। এরপর থেকে রাজ্য রাজনীতিতেই নিজের জায়গা পোক্ত করেন তিনি।

আজ যেখানে প্লেন ক্র্যাশ হল, সেই বরামতিই পাওয়ার পরিবারের ঘাঁটি বলা যায়। বরামতি থেকেই বারবার বিধায়ক হয়েছেন অজিত পাওয়ার। যে বরামতিতে অজিতের রাজনৈতিক কেরিয়ার শুরু হয়েছিল, সেই বরামতিতেই আজ প্লেন ভেঙে পড়ে তাঁর মৃত্যু হল।

১৯৯৯ সালে কংগ্রেস থেকে ভেঙে শরদ পাওয়ার NCP তৈরি করেছিলেন। অজিতও এনসিপি-তে যোগ দেন। এবং অল্প দিনেই এনসিপি-র অত্যন্ত জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী নেতা হয়ে ওঠেন। মাত্র ৪০ বছর বয়সে বিলাসরাও দেশমুখের নেতৃত্বে কংগ্রেস সরকারে মন্ত্রী হয়েছিলেন অজিত।

অজিত পাওয়ারের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী শোকজ্ঞাপনে লিখলেন, 'অজিত পাওয়ারজি ছিলেন একজন জননেতা, তৃণমূল স্তরে তাঁর দৃঢ় সংযোগ ছিল। মহারাষ্ট্রের জনগণের সেবায় অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী একজন পরিশ্রমী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি সর্বত্র সম্মানিত ছিলেন। প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর বোধগম্যতা এবং দরিদ্র ও নিপীড়িতদের ক্ষমতায়নের প্রতি তাঁর আবেগও উল্লেখযোগ্য ছিল। তাঁর অকাল মৃত্যু অত্যন্ত মর্মান্তিক এবং দুঃখজনক। তাঁর পরিবার এবং অগণিত ভক্তদের প্রতি সমবেদনা।'