
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি তিন দিনের সরকারি সফরে ভারতে এসেছেন। বৃহস্পতিবার দুই দেশের মধ্যে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বুধবার তিনি নয়াদিল্লিতে পৌঁছন, যা ছিল ভারতে তাঁর প্রথম সরকারি সফর। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণে তিনি ১ থেকে ৩ জুলাই পর্যন্ত ভারতে থাকবেন এবং ১৬তম ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেবেন।

এই সফরে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রতিরক্ষা, প্রযুক্তি এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে সহযোগিতাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে, দিল্লিতে পৌঁছালে জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ডঃ জিতেন্দ্র সিং। বিদেশ মন্ত্রকের মতে, ভারত ও জাপানের মধ্যে বিশেষ কৌশলগত এবং বৈশ্বিক অংশীদারিত্বকে নতুন গতি দিতে এই সফরটি গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতে পৌঁছনোর পর সানায়ে তাকাইচি ইনস্টাগ্রামে তাঁর সফরের ছবি শেয়ার করেছেন। জবাবে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে উষ্ণভাবে স্বাগত জানিয়ে লিখেছেন, 'ভারতে স্বাগতম, প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। আপনার প্রথম ভারত সফর আয়োজন করতে পেরে আমরা আনন্দিত।' বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী মোদী ও তাকাচির সাক্ষাৎ হয়। এর আগে রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁকে গার্ড অফ অনার দেওয়া হয়।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেছেন যে আমাদের লক্ষ্য একই। তিনি ঘোষণা করেন, ভারত ও জাপান কৌশলগত সহযোগিতা আরও গভীর করবে এবং আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে সম্মান করবে। তিনি বলেন,
'আমরা ভারত ও জাপানের মধ্যে কৌশলগত সহযোগিতা আরও বাড়াব। আঞ্চলিক শান্তির জন্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা সহযোগিতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভারত মহাসাগরে মহড়া বাড়াব।'

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ভারত সফরে থাকা জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে তাঁর ছোট বোন বলে অভিহিত করেছেন। তিনি জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে একজন দূরদর্শী ও জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ভারত-জাপান বার্ষিক শীর্ষ সম্মেলনের জন্য জাপানের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, আমি খুব খুশি। মোদী বলেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতার এই আবহে পারস্পরিক বিশ্বাস সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের অংশীদারিত্ব পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। তাকাইচির এই সফর বিশ্ব অংশীদারিত্বের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। তিনি বলেন, ভারত ও জাপান বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম অর্থনীতি। আমরা শান্তি ও স্থিতিশীলতার পথ প্রশস্ত করব।

প্রধানমন্ত্রী মোদী এবং সফররত জাপানি প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে উচ্চ-পর্যায়ের বৈঠকে চারটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে পাঁচটি সমঝোতা স্মারকও স্বাক্ষরিত হয়েছে।

বৈঠকে প্রতিরক্ষা, ওষুধশিল্প, সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাপ্লাই চেন, বিনিয়োগ এবং উদীয়মান প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেছেন। উভয় দেশ ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা এবং নিয়ম-ভিত্তিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রতি তাদের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে।

দুই দেশের মধ্যে গত এক বছরে ১০০টিরও বেশি নতুন ব্যবসায়িক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মাধ্যমে ভারতে ১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি জাপানি বিনিয়োগ এসেছে। আর্থিক পরিষেবা সংস্থাগুলির মধ্যে আজকের এই চুক্তি মূলধন এবং বিনিয়োগ প্রবাহকে আরও সহজ করবে। আগামী ১০ বছরে ভারতে জাপানের বিনিয়োগ ১০ ট্রিলিয়ন ইয়েনে উন্নীত করা এবং ভারতে জাপানি কোম্পানির সংখ্যা দ্বিগুণ করা নিয়েও দুই পক্ষ আশাবাদী। ভারত-জাপান বায়োগ্যাস উদ্যোগের মাধ্যমে ভারতে ১,০০০ বায়োগ্যাস এবং জৈব সারের কারখানা স্থাপনে সহায়তা করব জাপান।