
বহু প্রতীক্ষিত বর্ষার অবশেষে আগমন। সব কিছু ঠিক থাকলে আজ অর্থাত্ বৃহস্পতিবারই ভারতে প্রবেশ করছে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। কেরলে প্রবেশের মাধ্যমে শুরু হতে চলেছে ২০২৬ সালের বর্ষাকাল।

IMD জানিয়েছিল, কেরল ও তামিলনাড়ুতে বর্ষা ঢোকার অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি রয়েছে। কেরলে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমীর আনুষ্ঠানিক আগমন ঘোষণা করার আগে পরিস্থিতির উপর নিবিড় নজর রাখছে IMD। মৌসুমী বায়ুর প্রবেশ ঘোষণা করতে হলে তিনটি নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ হওয়া প্রয়োজন।

এর মধ্যে রয়েছে, কেরলের নির্ধারিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলির অন্তত ৬০ শতাংশে ধারাবাহিক বৃষ্টিপাত, পর্যাপ্ত গতির দমকা হাওয়া এবং আকাশে প্রয়োজনীয় মাত্রার মেঘের উপস্থিতি। এই তিনটি শর্ত পূরণ হলেই কেরলে মৌসুমী বায়ুর আগমনের সরকারি ঘোষণা করবে আইএমডি।

কেরলে প্রবেশের পরে কীভাবে এগোবে বর্ষা? আজ অর্থাত্ ৪ জুন বর্ষার বৃষ্টি হবে কেরলে। আইএমডি জানিয়েছে, ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে বিক্ষিপ্ত অঞ্চলে।

একই রকম আবহাওয়া থাকবে তামিলনাড়ু, লাক্ষাদ্বীপ ও কর্নাটকেও। একইসঙ্গে ভারতের একাধিক উপকূলবর্তী এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

শুক্রবার অর্থাত্ ৫ জুন দক্ষিণ ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলেই বর্ষার বৃষ্টি হতে পারে। কর্নাটক, কঙ্কন, গোয়া, তামিলনাড়ু ও মহারাষ্ট্রের কিছু এলাকায় (উপকূলবর্তী) ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

মধ্য ও উত্তর ভারতের একাধিক অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টিপাত এবং প্রবল দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি আগামী দিনগুলিতেও অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, এই বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে বজ্রঝড়ের কার্যকলাপ সক্রিয় থাকবে এবং কোথাও কোথাও শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।

এরপর শনিবার ৬ জুন ও তার পরে বর্ষা আরও বিস্তার করবে ভারতে। একাধিক এলাকায় ঢুকে পড়বে দক্ষিণ পশ্চিম মৌসুমী বায়ু। সে ক্ষেত্রে উত্তর-পূর্ব ভারত ও পূর্ব হিমালয় অঞ্চলে বর্ষার বৃ্ষ্টি শুরু হয়ে যেতে পারে।

যার নির্যাস, সপ্তাহান্তে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে অসম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গে উত্তরবঙ্গ (সাব হিমালয়ান রিজিয়ন) ও সিকিমে।

স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে জুন মাসে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু দ্রুত পশ্চিম উপকূল এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের বিস্তীর্ণ অংশে অগ্রসর হয়।

সাধারণত মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে মৌসুমী বায়ু মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগড় সহ মধ্য ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে পৌঁছে যায়। এরপর ধীরে ধীরে তা পূর্ব ও উত্তর ভারতের দিকে আরও বিস্তার লাভ করে।