
দিল্লির তুর্কমান গেট এলাকার ফয়েজ-ই-এলাহি মসজিদের কাছে বুধবার ভোররাতে বুলডোজার অভিযান চালানো হয়। পুলিশ কর্তৃপক্ষের দাবি, মসজিদের আশপাশের অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলার জন্য এই অভিযান চালানো হয়েছে এবং ঘটনাস্থলে ৩০টিরও বেশি বুলডোজার পৌঁছেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, বুলডোজার অভিযানের সময়ে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ করেছিল। পাথর ছোড়া এবং পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে বলে খবর। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল ছোড়ে

দিল্লি পুরসভার কর্তারা জানিয়েছেন, রাত ১টা থেকে বুলডোজার অভিযান শুরু হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ৪ থেকে ৫ জন পুলিশ আধিকারিক আহত হয়েছেন।

তুর্কমান গেটের কাছে ফয়েজ-ই-এলাহি মসজিদ এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। পাথর ছোড়ার ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে FIR দায়ের করেছে দিল্লি পুলিশ। পাথর ছুড়েছে যারা, তাদের শনাক্ত করতে CCTV ফুটেজ এবং বডি ক্যামেরা রেকর্ডিং ব্যবহার করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার দিল্লি হাইকোর্ট মসজিদ সইদ এলাহির ব্যবস্থাপনা কমিটির দায়ের করা একটি আবেদনের উপর নোটিশ জারি করেছে। যেখানে রামলীলা ময়দানে মসজিদ এবং কবরস্থান সংলগ্ন দখল উচ্ছেদের জন্য দিল্লি পুরসভার সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে। নোটিশ সত্ত্বেও বুলডোজার অ্যাকশন চলেছে রাতভর।

দখলের তালিকায় ছিল রাস্তার একটি অংশ, একটি ফুটপাথ, একটি কমিউনিটি হল, একটি পার্কিং এলাকা এবং একটি বেসরকারি ডায়গনস্টিক সেন্টার।

দিল্লি পুরসভার কর্তারা জানিয়েছেন, এই বুলডোজার অভিযানটি শুরু হয় রাত ১টা থকে এবং তুর্কমান গেট এলাকার ফৈজ-ই-ইলাহি মসজিদের কাছে অবৈধ নির্মাণ সরানোর উদ্দেশে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। যা দিল্লি হাইকোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী কার্যকর হচ্ছে।

এই অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানে মোট ১৭টি বুলডোজার মোতায়েন করা হয়েছে বলে খবর। বুলডোজার অভিযানের বিরুদ্ধে স্থানীয় বাসিন্দাদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয় পুর কর্তৃপক্ষকে। বহু মানুষ ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাতে না যায়, সেজন্য এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

সেন্ট্রাল রেঞ্জের জয়েন্ট পুলিশ কমিশনার মধুর ভার্মা বলেন, 'কয়েকজন দুষ্কৃতী পাথক ছুড়ে অভিযান ব্যর্থ করার চেষ্টা করেছিল। কোনও উত্তেজনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। এলাকাকে ৯টি জোনে ভাগ করা হয়, প্রতিটি জোনের দায়িত্বে ছিলেন একজন করে অতিরিক্ত ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ। সংবেদনশীল সব জায়গায় পর্যাপ্ত বাহিনী মোতায়েন ছিল।'

দিল্লি পুরসভার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের ১২ নভেম্বর ২০২৫ সালের নির্দেশ অনুযায়ী। ওই নির্দেশে তুর্কমান গেটের কাছে রামলিলা গ্রাউন্ডে প্রায় ৩৮ হাজার ৯৪০ বর্গফুট অবৈধ দখল ৩ মাসের মধ্যে উচ্ছেদ করতে পুরসভা এবং পূর্ত দফতরকে সময় দেওয়া হয়েছিল। এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেভ ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশন নামক একটি সংস্থার আবেদনের ভিত্তিতে, যাদের পক্ষে আদালতে সওয়াল করেছিলেন আইনজীবী উমেশ চন্দ্র শর্মা।