নীলষষ্ঠীবাঙালির বারো মাসে তের পার্বণ, তা আর কারও অজানা নয়। আর গোটা এপ্রিল মাস জুড়ে রয়েছে একাধিক পুজো-পার্বণ। সামনেই আসছে নীলপুজো বা নীলষষ্ঠী (Nil Sasthi)। প্রায় প্রতি বাড়ির মহিলারাই এদিন মূলত সন্তানের মঙ্গল কামনায় ব্রত পালন করেন। মহাদেবের (Lora Shiva) মন্দিরগুলিতে ভিড় জমান ভক্তেরা।
নীলষষ্ঠী ২০২৬-র দিনক্ষণ (Nil Sasthi Date & Time)
সাধারণত চৈত্র সংক্রান্তির আগে অর্থাৎ চড়ক উৎসবের আগের দিন নীলপুজো পালিত হয়। এই বছর ১৩ এপ্রিল অর্থাৎ ২৯ চৈত্র পড়েছে নীল পুজোর তারিখ।
নীলষষ্ঠীর ব্রত পালনের শুভ সময় (Nil Sasthi Puja Timing)
এই পুজোর কোন বিশেষ মুহূর্ত আলাদা করে থাকে না। তবে নীলপুজোর দিন সন্ধ্যেবেলা শিবলিঙ্গে জল ঢেলে, সন্তানের নামে প্রদীপ বা মোম জ্বালানো সবচেয়ে শুভ।
নীলপুজোর ব্রত পালনের উপকরণ
গঙ্গামাটি বা শুদ্ধ মাটি, বেল পাতা, গঙ্গা জল, দুধ, দই, ঘি, মধু, কলা, বেল, বেলের কাঁটা ও মহাদেবের পছন্দের কোনও ফুল।
ব্রতের নিয়ম
নীলষষ্ঠীর দিন সারা দিন উপোস করে সন্ধ্যাবেলা শিবের মাথায় জল ঢালতে হয়। এরপর শিবের মাথায় বেলপাতা, ফুল ও একটি ফল ছুঁয়ে রাখতে হয়। এরপর বা অপরাজিতার মালা পড়িয়ে, সন্তানের নামে একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে প্রার্থনা করতে হয়। মনে রাখা জরুরি, উপোস ভাঙার পরও এদিন ফল,সাবু ইত্যাদি ছাড়া ময়দার তৈরি খাবারই খেতে হয়। এমনকি সন্দক লবণ দিয়ে খাবার খেতে হয়। মনে করা হয় ব্রতের দিন উপোস করে নিষ্ঠা করে কিছু নিয়ম মানলে ভক্তের মনোবাঞ্ছা পূরণ করেন দেবাদিদেব।
নীলষষ্ঠীতে মূলত সন্তানের কামনায় উপবাস করে থাকেন মহিলারা। তবে শুধু বিবাহিত মহিলা নয়, অবিবাহিত মহিলা এবং অনেক পুরুষও এই ব্রত পালন করেন নিষ্ঠা করে। । তারকেশ্বর থেকে শুরু করে পশ্চিম বাংলার একাধিক স্থানে কাঁধে বাঁক নিয়ে শিবের মাথায় জল ঢালতে হাজির হন শিব ভক্তেরা।
শিবের পছন্দের ফুল
বেলপাতা,ধুতুরা, আকন্দ, অপরাজিতা, কলকে প্রভৃতি ফুল শিবের প্রিয় বলে জানা যায়। তবে মহাদেব বেলপাতাতেই সবচেয়ে বেশি তুষ্ট হন।