
তারাপীঠের রথযাত্রার খুঁটিনাটি সনাতন ধর্মের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎসব হল রথযাত্রা। এই শুভ দিনে তারাপীঠ মন্দিরেও ভিড় জমান লক্ষ লক্ষ ভক্তরা। মা তারার বিগ্রহকে গর্ভগৃহের বাইরে আনা হয় শুধুমাত্র রথের দিনই। এরপর রথে বিগ্রহকে বসিয়ে প্রদক্ষিণ করা হয় গোটা মন্দির চত্বর। বীরভূমের তারাপীঠ মন্দিরের রথযাত্রা এবার নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।
বাংলার ঐতিহ্যবাহী রথের তালিকায়, মা তারার রথও অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। রাজ্য সরকারের তরফে, তারাপীঠ মন্দির কমিটির সেবাইত সমিতির জন্য ৫ লক্ষ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়ার জন্য ঘোষণা হয়েছে। সেই অনুদানের অর্থ কীভাবে ব্যয় করা হবে সেই সঙ্গে রথযাত্রা কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে, সম্পূর্ণ পরিকল্পনা জানিয়েছে তারাপীঠ মন্দির কর্তৃপক্ষ।
তারাপীঠ মন্দির কমিটির আহ্বায়ক তারকনাথ চট্টোপাধ্যায়, "তারাপীঠের রথে জগজ্জননী মা তারা অধিষ্ঠান করে। মায়ের ঐতিহ্যবাহী রথ সকলের দর্শনের জন্য বেরোয় একদিনই বছরে। প্রথমত রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে অনেক ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমাদের পরিকল্পনা আছে, রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদানের টাকা পেলে, রথযাত্রাকে আকর্ষণীয় করে তুলতে যা যা দরকার তা করব। ভেবে রেখেছি বিভিন্ন রকমের নৃত্য পরিবেশন হবে। এছাড়া বিভিন্ন রকমের বাজনা, মানে পাঁচ-ছয় রকমের বাজনা চলবে। মায়ের মন্দির, শিব মন্দির, ষষ্ঠী মন্দির, যে মন্দিরগুলো আছে সেগুলো সহ মূল রথটাকে একদম ফুল দিয়ে সাজানো হবে ভাল ভাবে। পুরো মন্দির, এমনকী, গোটা তারাপীঠে বিভিন্ন জায়গায় আলোকসজ্জায় সজ্জিত হবে।"

তিনি আরও যোগ করেন, "আগত তীর্থযাত্রীরা রথের সময় যাতে প্রসাদ পায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে। পুরো তারাপীঠে সারাদিন ধরে মায়ের নামগান বাজবে। তারাপীঠ পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছ। সুগন্ধি স্প্রে হবে ভক্তদের দিকে। বিভিন্ন রকমের ট্যাবলোর চিন্তাভাবনা করছি আমরা। বশিষ্ঠ মুনি, বামদেব, মা তারার মতো জীবন্ত মূর্তি সেজে, কিছু কিছু ট্যাবলো রথের আগে পেছনে থাকবে। এত তীর্থযাত্রী আসবে, যাতে কোনও রকম দুর্ঘটনা না হয়, কেউ অসুস্থ হলে মেডিকেল ক্যাম্পের একটা চিন্তাভাবনা করেছি, আবেদন করব। অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবারও ব্যবস্থা থাকবে।" তিনি আরও জানান, চিন্তা-ভাবনা রয়েছে তারাপীঠের বিভিন্ন রাস্তায় বড় স্কিন লাগিয়ে রথ যাত্রা লাইভ দেখানোর।

প্রসঙ্গত, এবছর ১৬ জুলাই, বৃহস্পতিবার, সারা দেশ তথা বাংলায় পালিত হবে রথযাত্রা। আর রথের আগে বিরাট ঘোষণা করেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৬০টি রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। এ দিন শুভেন্দু বলেন, "রথযাত্রাকে কেন্দ্র করে এমন এমন উৎসব এই রাজ্যে রয়েছে, যেগুলি ৫০-১০০ বছর নয়, শত শত বছর পুরনো। মহিষাদলের রথযাত্রা বলুন, মাহেশের রথযাত্রা বলুন। এমন অনেক রথযাত্রা রয়েছে, কোচবিহার থেকে কাকদ্বীপ, দার্জিলিং থেকে দিঘা, যারা আমাদের ঐতিহ্য, পরম্পরা, আধ্যাত্মিকতা এবং আনন্দের মিলন ক্ষেত্রের রূপ নেয়।"
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর আমার হাতে রয়েছে। এই দফতরের মাধ্যমে আমরা পশ্চিমবঙ্গের ৭৫টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রার মেলায় সেবাকেন্দ্র স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই সেবাকেন্দ্রেগুলি থেকে যে ভক্তরা আসবে, তাঁদের ন্যূনতম পরিষেবা প্রদান করা হবে ৭৫টি জায়গায়। এতে পুরসভা, জেলা পুলিশ, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট রথযাত্রা কমিটিকে আমরা যুক্ত করেছি।"