বৃহস্পতিবারেও চলবে মকর সংক্রান্তির পুণ্যস্নানজ্যোতিষ ও শাস্ত্র মতে মকর সংক্রান্তিতে সূর্য ধনু রাশি থেকে মকর রাশিতে গমন করে। এই গমনকে অয়নকালের শুরু হিসেবে ধরা হয়। এই দিনে উত্তরায়ণের সূচনার ফলে সূর্যের উপাসনা, পবিত্র নদীতে স্নান এবং সূর্য দেবতাকে দান করা অত্যন্ত শুভ হিসেবে মনে করা হয়। সাধারণত, প্রতি বছরই ১৪ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি পালন করা হয়। কিন্তু এই বছর মকর সংক্রান্তির তারিখ নিয়ে বিভ্রান্তি রয়েছে। কারণ হল ষষ্ঠীলা একাদশীও পড়েছে ১৪ জানুয়ারি, অর্থাৎ আজ। তাই অনেকেই বিষয়টি গুলিয়ে ফেলছেন। তাহলে এবছর মকর সংক্রান্তি কবে? পুণ্য স্নানের সঠিক সময় কখন বুঝে নিন।
১৪ নাকি ১৫ জানুয়ারি - কেন এত বিভ্রান্তি?
দৃক পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি রাতে সূর্য মকর রাশিতে প্রবেশ করবে। শাস্ত্র অনুসারে, যদি সূর্যের গোচর রাতে হয়, তাহলে পরের দিন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। এই কারণে, অনেক পণ্ডিত ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উদযাপনের পরামর্শ দিচ্ছেন । যদিও ঐতিহ্য অনুসারে, দেশের অনেক অংশে আজ ১৪ জানুয়ারিই সংক্রান্তি পালিত হচ্ছে।
স্নান ও দানের পুণ্য সময় বুঝে নিন
জ্যোতিষী এবং পণ্ডিতদের মতে, ১৪ জানুয়ারি অর্থাৎ বুধবার যারা স্নান ও দান করছেন তাঁদের জন্য স্নানের জন্য সবচেয়ে শুভ সময় হবে সকাল ৯:০৩ টা থেকে ১০:৪৮ টা পর্যন্ত। আর যারা বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি মকর সংক্রান্তি উদযাপন করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে স্নান ও দান করার জন্য শুভ সময় হবে ভোর ৪ টে থেকে বিকাল ৩ টে পর্যন্ত।
ভাত বা খিচুড়ি খাবেন না বা দান করবেন না
যারা আজ মকর সংক্রান্তি উদযাপন করছেন তাঁদের ভাত খাওয়া বা খিচুড়ি দান করা করা উচিত নয়। এছাড়াও, কাকতালীয়ভাবে ষষ্ঠীলা একাদশীও আজকের দিনেই পড়েছে, তাই ১৪ই জানুয়ারি খিচুড়ি তৈরি করা বা ভাত দান করা ধর্মীয়ভাবে সঠিক বলে মনে করা হয় না।
স্নান ও দানের সময় মেনে সব করা উচিত
মকর সংক্রান্তিতে শুভ সময় ছাড়া স্নান ও দান করলে পুণ্যফল কমে যেতে পারে। তাই এই দিনে ব্রহ্ম মুহুর্ত, সূর্যোদয় বা নির্দিষ্ট মুহুর্তের সময় স্নান ও দান করা শুভ বলে মনে করা হয়।
তিল দান উপেক্ষা করবেন না
ষষ্ঠীলা একাদশী ও মকর সংক্রান্তি উভয় দিনেই তিলের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই দিন তিল, গুড় এবং তিলের তেল দান করা অত্যন্ত শুভ বলে মনে করা হয়।
একাদশীর নিয়ম কী রয়েছে?
ষষ্ঠীলা একাদশীতে ভগবান বিষ্ণুর পুজো ও উপবাসের বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে। এই দিনে উপবাসের নিয়ম ভঙ্গ করা বা আমিষ খাবার খাওয়া পাপের সমান ধরা হয়।