প্রাচীন ভারতের অর্থশাস্ত্র ও কৌটিল্যে পারদর্শী আচার্য চাণক্য শুধুমাত্র নীতিনৈতিকতা নিয়েই বলেননি, বরং জীবনের বাস্তব ও প্রয়োজনীয় পারিপার্শ্বিক দিকগুলি নিয়েও গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি প্রকৃতি ও প্রাণীদের আচরণ বিশ্লেষণ করে মানুষকে জীবনের পাঠ শিখিয়ে গেছেন। তাঁর মতে, কাকের মতো ঝাড়ুদার পাখির এমন অনেক গুণাবলী আছে যা যদি মানুষ নিজের জীবনে প্রয়োগ করতে পারে, তবে তা তাকে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে দিতে সক্ষম।
সতর্কতা ও সজাগ দৃষ্টি
কাক সর্বদা চারপাশের পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন ও সতর্ক থাকে। এই গুণটি মানুষের মধ্যে থাকলে সে বিপদ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে দ্রুত ও সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
অধ্যবসায় ও ধৈর্য
কাক অত্যন্ত ধৈর্যশীল পাখি। প্রতিকূলতা সত্ত্বেও সে নিজের লক্ষ্যে স্থির থাকে। মানুষ যদি অধ্যবসায় ও ধৈর্য ধরে কাজ করে যায়, তবে সে অবশ্যই জীবনে সফল হবে।
কৌশলগত বুদ্ধিমত্তা
কাক অত্যন্ত ধূর্ত ও কৌশলী। সে তার বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে নিজের স্বার্থ রক্ষা করে। মানুষও যদি নিজের বুদ্ধিমত্তা ও কৌশলকে কাজে লাগাতে পারে, তবে যেকোনো সমস্যা সমাধান করে সাফল্যের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
সুবিধা ও সুযোগের সঠিক ব্যবহার
কাক সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে জানে। যে কোনো পরিস্থিতিতে সে নিজের সুবিধা দেখে কাজ করে। মানুষও যদি সুযোগ কাজে লাগাতে শেখে, তবে সে দ্রুত নিজের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গোপন রাখা
কাক তার পরিকল্পনা গোপন রাখে, যা তাকে সফল হতে সাহায্য করে। চাণক্য বলেছেন, সাফল্য অর্জনের আগে নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কারো সঙ্গে ভাগ না করে নীরবে কাজ করে গেলে তা সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।