Advertisement
অর্থনীতি

PM Svanidhi Yojana Scheme 6 Years: গ্যারান্টি ছাড়াই মিলবে ব্যবসা করার জন্য ঋণ, হকারদের জন্য দারুণ সরকারি এই স্কিম

পিএম স্বনিধি যোজনা ১
  • 1/7

ফুটপাথের ছোট ব্যবসায়ী, হকার কিংবা রেহড়ি-পুটরিওয়ালাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে মোদী সরকারের এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ ছিল 'পিএম স্বনিধি যোজনা' (PM SVANidhi Yojana)। ১ জুন ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে এই বিশেষ প্রকল্প সাফল্যের সঙ্গে পূর্ণ করল দীর্ঘ ৬ বছর। ২০২০ সালের ১ জুন, করোনা মহামারীর চরম সঙ্কটের দিনগুলিতে লকডাউনের ধাক্কায় বিপর্যস্ত রাস্তার ধারের ছোট বিক্রেতাদের ব্যবসা নতুন করে শুরু করার তাগিদে এই ঋণ প্রকল্প চালু করেছিল কেন্দ্র। এই ৬ বছর পূর্তির মাহেন্দ্রক্ষণে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই প্রকল্প দেশের লক্ষ লক্ষ প্রান্তিক ব্যবসায়ীর জীবনে এক আমূল পরিবর্তন এনেছে। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এটি আসলে ছোট ব্যবসায়ীদের প্রতি "বিশ্বাস, সম্মান এবং ক্ষমতায়ন"-এর (Trust, Dignity and Empowerment) এক অনন্য যোজনা।

পিএম স্বনিধি যোজনা ২
  • 2/7

শহরাঞ্চলের হকার, ফেরিওয়ালা, ঠেলাচালক কিংবা রাস্তার ধারের ছোট দোকানদারদের মতো প্রান্তিক মানুষদের লক্ষ্য করেই মূলত এই প্রকল্প তৈরি করা হয়েছে, যাদের সাধারণ ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা সহজে ঋণ দিতে চায় না। এই যোজনার সবচেয়ে বড় এবং আকর্ষণীয় বৈশিষ্ট্য হলো, ঋণের জন্য আবেদনকারীকে কোনো সম্পত্তি বা গয়না বন্ধক রাখতে হয় না। সম্পূর্ণ গ্যারান্টি-মুক্ত বা 'কোল্যাটারাল-ফ্রি' (Collateral-free) ঋণ হিসেবে এই অর্থ সরাসরি উপভোক্তার হাতে তুলে দেয় সরকার। ফলে মহাজন বা সুদখোরদের চড়া সুদের ফাঁদ থেকে রেহাই পাচ্ছেন দেশের গরিব ও ছোট ব্যবসায়ীরা।

পিএম স্বনিধি যোজনা ৩
  • 3/7

প্রকল্পের নিয়ম অনুযায়ী, কোনো আবেদনকারী একবারে পুরো ৯০,००০ টাকা হাতে পাবেন না; এই লোন দেওয়া হয় মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে। প্রথম দফায় ব্যবসার জন্য মিলবে ১৫,००০ টাকার ঋণ। এই প্রথম কিস্তির টাকা সঠিক সময়ে পরিশোধ করলে তবেই মিলবে ২৫,००০ টাকার দ্বিতীয় কিস্তির লোন। একইভাবে দ্বিতীয় দফার লোনও সময়মতো শোধ করার ওপর ভিত্তি করে তৃতীয় দফায় সরাসরি ৫০,००০ টাকার বড় ঋণ মঞ্জুর করা হবে। অর্থাৎ, যে সমস্ত উপভোক্তার 'রিপেমেন্ট হিস্ট্রি' বা ঋণ শোধের রেকর্ড ভালো, তাঁরাই ধাপে ধাপে মোট ৯০,००০ টাকা পর্যন্ত গ্যারান্টি-হীন লোন পাবেন।

Advertisement
পিএম স্বনিধি যোজনা ৪
  • 4/7

লোন পাওয়ার এই গোটা প্রক্রিয়াটিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতামুক্ত এবং অত্যন্ত সহজ করে তুলেছে কেন্দ্র। আবেদনের ক্ষেত্রে আধার-ভিত্তিক ডিজিটাল ই-কেওয়াইসি (e-KYC) ব্যবহার করায় কাগজপত্রের ঝঞ্ঝাট একধাক্কায় প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। আবেদন অনুমোদিত হলো কিনা, তা আবেদনকারী তাঁর মোবাইলে আসা এসএমএস (SMS)-এর মাধ্যমেই জানতে পারেন। এখানেই শেষ নয়, যারা সঠিক সময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করেন, তাঁরা সরকারের কাছ থেকে পান সুদের ওপর বিশেষ ভরতুকি (Interest Subsidy)। পাশাপাশি ব্যবসা চালাতে যারা ডিজিটাল পেমেন্ট বা অনলাইনের সাহায্য নেন, তাঁদের জন্য অতিরিক্ত ক্যাশব্যাকের (Cashback) সুবিধাও রয়েছে।

পিএম স্বনিধি যোজনা ৫
  • 5/7

সরকারি পরিসংখ্যানের খতিয়ান খতিয়ে দেখলে এই প্রকল্পের সাফল্যের এক বিরাট ছবি ধরা পড়ে। এ যাবৎকাল পর্যন্ত এই যোজনার আওতায় দেশজুড়ে ১.১২ কোটিরও বেশি ঋণ বিতরণ করা হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ সুফল পেয়েছেন ৭৫ লক্ষেরও বেশি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। টাকার অঙ্কে যা প্রায় ১৭,৮০০ কোটি ছাড়িয়ে গিয়েছে। পাশাপাশি ৫৫ লক্ষেরও বেশি হকারকে ডিজিটাল অর্থনীতির আঙিনায় নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে। ডিজিটাল লেনদেনের ক্ষেত্রেও তৈরি হয়েছে এক অনন্য নজির। এই প্রকল্পের উপভোক্তারা এখনও পর্যন্ত ৮৪১ কোটিরও বেশি ডিজিটাল ট্রানজ্যাকশন করেছেন, যার সামগ্রিক আর্থিক মূল্য প্রায় ৮.৯৬ লক্ষ কোটি টাকা। ইতিমধ্যেই উপভোক্তারা ক্যাশব্যাক এবং সুদ ভরতুকি বাবদ প্রায় ৮०० কোটি টাকার সরাসরি আর্থিক লাভ পকেটে পুরেছেন, যা লোনের প্রকৃত খরচ অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে।

পিএম স্বনিধি যোজনা ৬
  • 6/7

এই লাভজনক প্রকল্পে আবেদন করার প্রক্রিয়াও বেশ নির্দিষ্ট। যে কোনো হকার বা বিক্রেতা, যাদের কাছে পৌরসভা বা পুরনিগম প্রদত্ত নিজস্ব 'স্ট্রিট ভেন্ডর পরিচয়পত্র' বা 'সার্টিফিকেট অফ ভেন্ডিং' রয়েছে, তারা সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। এছাড়া পুরসভা বা স্থানীয় প্রশাসন দ্বারা স্বীকৃত বিক্রেতা এবং 'লেটার অফ রিকমেন্ডেশন' (LoR) প্রাপ্ত ছোট ব্যবসায়ীরাও এই ঋণের সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের স্বনির্ভর করার এই ব্যাপক সাফল্য এবং আকাশছোঁয়া চাহিদার কথা মাথায় রেখে সরকার ইতিমধ্যেই এই প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়ে মার্চ ২০৩০ পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং সেই সঙ্গে বৃদ্ধি করা হয়েছে বাজেটের বরাদ্দও।

 

পিএম স্বনিধি যোজনা ৭
  • 7/7

পরিশেষে বলা যায়, পিএম স্বনিধি যোজনা আজ আর পাঁচটা সাধারণ লোন স্কিমের গণ্ডি ছাড়িয়ে দেশের ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক ব্যবসায়ীদের মূল স্রোতের ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার সাথে যুক্ত করার এক মহৎ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। স্বল্প পুঁজির ব্যবসায়ীদের আত্মনির্ভর করা, কম সুদে ঋণ দেওয়া, ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ বা 'ফিনান্সিয়াল ইনক্লুশন' নিশ্চিত করাই এই প্রকল্পের আসল সাফল্য। মাত্র ১৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত এই ঋণ প্রকল্প আজ আক্ষরিক অর্থেই ভারতের কোটি কোটি হকারের অন্ধকার জীবনে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

Advertisement