অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন মঙ্গলবার সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২-২৩ পেশ করেছেন। Economic Survey 2022-23: অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন মঙ্গলবার সংসদে অর্থনৈতিক সমীক্ষা ২০২২-২৩ পেশ করেছেন। সমীক্ষায় ২০২৪ অর্থবর্ষের ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬.৫ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে। এখানে ২০২২ অর্থবর্ষের ভারতের জিডিপি বৃদ্ধির হার ৮.৭ শতাংশের তুলনায় চলতি বছরের জন্য এই বৃদ্ধির ৭ শতাংশ অনুমান করা হয়েছে৷
এই বৃদ্ধির হারে, ভারত বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশে পরিনত হবে। আগে অর্থনীতিবিদরা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, এই জিডিপি বৃদ্ধির অনুমান তার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। অর্থনৈতিক সমীক্ষ ২০২২-২৩ নথিতে বলা হয়েছে, “দেশের অর্থনীতিতে যা ক্ষতি হয়েছিল তা ইতিমধ্যেই প্রায় সামলে উঠেছে। অর্থনীতির উন্নয়নে যে বিষয়গুলি থমকে গিয়েছিল, তা পুনরায় গতি পেয়েছে। মহামারী চলাকালীন অর্থনীতির উন্নয়নের গতি ধীর হয়ে গিয়েছিল, তা পুনরায় গতিময় হয়েছে।”
এই সমীক্ষায় আগামী অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উন্নয়নের উপর নির্ভর করে প্রকৃত জিডিপি বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশ থেকে ৬.৮ শতাংশের মধ্যে হতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। এই অর্থনৈতিক সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, ২০২৩ অর্থবর্ষের জিডিপির বৃদ্ধি প্রাথমিকভাবে ব্যক্তিগত খরচ, উচ্চ মূলধন ব্যয়, শক্তিশালী কর্পোরেট ব্যালেন্সশিট, ছোট ব্যবসায় ঋণের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং শহরের বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা দ্বারা চালিত হয়েছিল।
আরও পড়ুন: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে, আশায় দেশের ৭৩% মানুষ
অর্থনৈতিক সমীক্ষ ২০২২-২৩ নথিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৬.৮ শতাংশের মূল্যস্ফীতি অনুমান ব্যক্তিগত খরচ কমানোর জন্য যথেষ্ট নয়। যদিও এই জিডিপি বৃদ্ধির হার রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ৬ শতাংশের সীমার চেয়ে বেশি। আর্থিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ অর্থবর্ষের মুদ্রাস্ফীতিতে বিনিয়োগ বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনাও কম।
তবে, সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, ঋণের জন্য হওয়া খরচ মুদ্রাস্ফীতির সময়কালকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা আরও একটি উদ্বেগজনক বিষয় হল, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD)। এই সমীক্ষায় বলা হয়েছে যে, বিশ্বব্যাপী পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট-এর পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। CAD আরও বাড়লে, তা আর্থিক পরিস্থিতির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এই সমীক্ষা অনুযায়ী, সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রয়েছে। অর্থনৈতিক সমীক্ষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, কারেন্ট অ্যাকাউন্ট ডেফিসিট (CAD)-এর অর্থের জোগান দিতে ভারতের কাছে পর্যাপ্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ রয়েছে এবং টাকার মূল্যের উচ্চতর অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণ করতে বিশ্ব বাজারেও বিনিয়োগ করতে হতে পারে। এই অর্থনৈতিক সমীক্ষায় তুলে ধরা হয়েছে যে, ২০২৪ অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে রপ্তানির বৃদ্ধির গতি মন্থর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিশ্বের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির মন্থর গতি এবং বিশ্ব বাণিজ্য সঙ্কুচিত হওয়ার ফলে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে রপ্তানির আরও ক্ষতি হতে পারে।