চলতি অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকে জিডিপি হার ছাড়িয়ে গিয়েছে পূ্র্বাভাসকেও। তিন মাসের জিডিপি হার ৭.৮ শতাংশ। ঘটনা হল, কোনও বিশেষজ্ঞই মনে করেননি, প্রথম তিন মাসের জিডিপি এমনটা হতে পারে। বরং অনুমান করা হয়েছিল, এই হার থাকতে পারে ৬.৭ শতাংশে। গত বছর এই সময় ত্রৈমাসিক জিডিপি ছিল ৬.৫%। কীভাবে প্রত্যাশাকেও ছাপিয়ে গেল দেশের আর্থিক বৃদ্ধি? এর পিছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে পরিষেবা ক্ষেত্র।
দেশের অর্থনীতির গাড়িকে টেনে নিয়ে গিয়েছে পরিষেবা ক্ষেত্র। যার জিডিপি ৯.৩%। মোট জিডিপির ৫৫% এরও বেশি পরিষেবা ক্ষেত্র থেকে এসেছে। অর্থাৎ প্রতি ১০০ টাকার জিডিপির মধ্যে প্রায় ৫৫ টাকা জুগিয়েছে পরিষেবা ক্ষেত্র। সামগ্রিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতিপথ বদলে দিয়েছে।
পরিষেবা ক্ষেত্র বলতে কারা?
আর্থিক পরিষেবা: ব্যাঙ্কিং, বিমা, বিনিয়োগ পরিষেবা আইটি ও বিপিও: সফটওয়্যার, প্রযুক্তি রফতানি বাণিজ্য এবং হোটেল রেস্তরাঁ: দেশীয় ও বিদেশি পর্যটন, হোটেল শিল্প
যোগাযোগ ও পরিবহণ: বিমান সংস্থা, রেলপথ, লজিস্টিক
রিয়েল এস্টেট এবং পেশাদার পরিষেবা: সম্পত্তি কেনাবেচা, কনসাল্টিং
কেন পরিষেবা ক্ষেত্রে এমন সমৃদ্ধি?
ডিজিটালাইজেশন এবং আইটি রফতানিতে জোর।
পর্যটন এবং অভ্যন্তরীণ বিমান পরিবহণে রেকর্ড বৃদ্ধি।
আর্থিক পরিষেবা এবং ডিজিটাল পেমেন্ট বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী বছরগুলিতে ভারতের পরিষেবা ক্ষেত্র জিডিপির প্রধান চালিকাশক্তি হতে চলেছে। তবে অংশীদারিত্ব রয়েছে কৃষি ক্ষেত্রেরও। ২০২৫-২৬ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে কৃষি ক্ষেত্রের জিডিপি হার ৩.৭%। যা আগের বছরের একই সময়ের চেয়ে ১.৫% বেশি।
ভারতের অর্থনীতির জন্য সময়টা সুখকর নয়। এ দেশের পণ্যের উপর চড়া শুল্ক চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি ভারতের অর্থনীতিকে 'মৃত' বলেও কটাক্ষ করেছেন। স্বাভাবিকভাবে জিডিপির হার বুঝিয়ে দিল এই দেশের অর্থনীতি একদম সঠিক দিশায় রয়েছে, মনে করছেন অর্থনীতি মহলের একাংশ।