scorecardresearch
 
 

স্কুলে একজন মাত্র শিক্ষক! নিয়োগের দাবিতে আলিপুরদুয়ারে বিক্ষোভ

প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগ ও বদলির প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এই নিয়োগ ও বদলির মাঝে কোনভাবেই শিক্ষক পাচ্ছে না আলিপুরদুয়ার জেলার এক শিক্ষক বিশিষ্ট প্রাথমিক স্কুলগুলি। এবার জেলার এমন তিনটি স্কুলে আরও শিক্ষক চেয়ে আন্দোলনে নামলেন গ্রামবাসীরা। আলিপুরদুয়ার জেলার পূর্ব মন্ডলের উত্তর থানুপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়,পশ্চিম মন্ডলের চকোয়াখেতি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কালচিনির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন।

শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ
হাইলাইটস
  • স্কুলের সমস্ত কাজ করেন একজন মাত্র শিক্ষক
  • আরও শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের
  • নিয়োগের বিষয়টি দেখা হবে বলে আশ্বাস সংশ্লিষ্ট আধিকারিকের

করোনার বিধি নিষেধের জেরে বন্ধ রয়েছে স্কুল। এই অবস্থায় মিড ডে মিলের সামগ্রী প্রতি মাসে প্রাথমিক স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকদের দিচ্ছে সরকার। সঙ্গে দেওয়া হচ্ছে ছাপানো অ্যাক্টিভিট টাস্কও। ছাত্র ছাত্রীদের করা সেই সব অ্যাক্টিভিটি টাস্ক আবার স্কুলে জমা করছেন অভিভাবকরা। পরে আবার সেগুলো দেখে তাতে নম্বর দিচ্ছেন  শিক্ষকরা। কিন্তু গোটা এই প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে আলিপুরদুয়ার জেলায় এক শিক্ষক বিশিষ্ট প্রাথমিক স্কুলগুলি। জুতোসেলাই থেকে চণ্ডীপাঠ, সবটাই সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছেন একজন শিক্ষক। সেই কারনে এবার এক শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুলগুলিতে শিক্ষক নিয়োগের দাবি তুলে সরব হলেন সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্রামবাসীরা।

শিক্ষক নিয়োগের দাবি

জানা গিয়েছে, প্রাথমিক স্কুলে নিয়োগ ও বদলির প্রক্রিয়া চলছে। কিন্তু এই নিয়োগ ও বদলির মাঝে কোনভাবেই শিক্ষক পাচ্ছে না আলিপুরদুয়ার জেলার এক শিক্ষক বিশিষ্ট প্রাথমিক স্কুলগুলি। এবার জেলার এমন তিনটি স্কুলে আরও শিক্ষক চেয়ে আন্দোলনে নামলেন গ্রামবাসীরা। আলিপুরদুয়ার জেলার পূর্ব মন্ডলের উত্তর থানুপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়,পশ্চিম মন্ডলের চকোয়াখেতি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কালচিনির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় মানুষজন। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, গত চার মাস ধরে দফায় দফায় আলিপুরদুয়ার জেলায় অন্তত দুশো প্রাথমিক শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। অথচ আশ্চর্যজনক ভাবে একজন করে শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এই স্কুলগুলিতে কোনও নিয়োগ করা হয়নি। যেসব স্কুলে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন, সেখানেই আরও শিক্ষক নিয়োগ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তাঁদের। এমনকী এই বিষয়ে মন্ত্রী পরেশ অধিকারীর দারস্থ হওয়ার হুশিয়ারিও দিয়েছেন গ্রামবাসীরা।

কেন নিয়োগ করা যাচ্ছে না শিক্ষক?

ঘটনায়, বিরোধী শিক্ষক সংগঠন এবিপিটিএ-এর আলিপুরদুয়ার জেলার সম্পাদক সুজিত দে-র অভিযোগ, "জেলায় অন্তত হাফ ডজন প্রাথমিক স্কুলে মাত্র একজন করে স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন। এর মধ্যে বক্সা পাহাড়ের তিনটি স্কুলও রয়েছে। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগ হলেও ওই স্কুলগুলিতে কোন শিক্ষক দেওয়া হয়নি।  যেসব স্কুলে বেশি সংখ্যক শিক্ষক রয়েছেন সেখানে আরও শিক্ষককে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। আমরা চাই এই অনিয়মের সঠিক তদন্ত হোক।" এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান গার্গি নার্জিনারি বলেন, "কাউন্সেলিং-এর সময় এক শিক্ষক বিশিষ্ট স্কুলগুলির নাম তালিকায় ছিল, কিন্তু কেউ ওই স্কুলগুলিতে যেতে চাননি বলেই সমস্যা দেখা দিয়েছে। তবে কী ভাবে ওই স্কুলগুলিতে শিক্ষক দেওয়া যায় সেটা দেখা হবে।"