
প্রত্যাবর্তন হল না। তাঁরও না। তাঁর দলেরও না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেরা হল না। ২০২৬ সালের ভোট ঐতিহাসিক নির্বাচনের সাক্ষী হল বাংলা।

২০১১ সালের পরে ফের পরিবর্তন দেখল পশ্চিমবঙ্গ। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখন বঙ্গ জয় প্রায় নিশ্চিত বিজেপির। ১৯০ আসনে এগিয়ে গেরুয়া বাহিনী। অন্যদিকে ১০০টি আসনে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস।

পশ্চিমবঙ্গে দুটি দফায় এই বিরাট ভোটের হার, সেই ভোটে কি ব্যাপক প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা? নাকি SIR-এর ভয়ে সবাই ভোট দিয়েছে, এই প্রশ্নটি নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

২০১১ সালের থেকেও বেশি ভোটদানের হার ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে। ভারতের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে রেকর্ড ভোটদানের হার।

এমনকী, এত শান্তিপূর্ণ ভোট বহুকাল দেখেনি বাংলার মানুষ। প্রথম দফায় ভোট পড়েছিল ৯৩.১৯ শতাংশ।

অর্থাত্ প্রতি একশো জনের মধ্যে ৯৩ জন ভোট দিয়েছেন। দ্বিতীয় দফায় ভোটদানের হার ছিল ৯২.৬৭ শতাংশ। সার্বিক ভাবে ৯২.৯৩ শতাংশ ভোটদানের হার।

এই ব্যাপক ভোটদানের হারে নানা প্রশ্ন মানুষের মনে জাগতে শুরু করে। কারও মনে জল্পনা চলছিল, এসআইআর-এর ভয়েই এত মানুষ ভোট দিয়েছেন।

মানুষের মনে আশঙ্কা ছিল, এবারে ভোট না দিলে পরের বার এসআইআর হলে লিস্টে নাম না-ও থাকতে পারে। আবার আরেক অংশের মানুষের মনে জল্পনা চলছিল, ব্যাপক প্রতিষ্ঠান বিরোধিতার জন্য প্রচুর মানুষ ভোট দিয়েছেন।

আসলে বেশি সংখ্যায় মানুষ যখন ভোট দেয়, সাধারণত সরকার পরিবর্তনেরই ইঙ্গিত জোরাল হয়। কিন্তু এবারে SIR হওয়াতে সেই চিরাচরিত ধারণা খানিকটা ধাক্কা খেয়েছিল। কিন্তু দিনের শেষে দেখা গেল, বাংলার একটি বড় অংশের মানুষের মনে পরিবর্তনের স্রোত অন্তঃসলিলায় প্রবাহিত হচ্ছিল। যাবতীয় রহস্যের অবসান হয়ে গেল আজ অর্থাত্ সোমবার। ২০১১ সালের মতোই পরিবর্তন দেখল বাংলা। বেশি ভোটদানের পিছনে আসলে দুটি বিষয় কাজ করেছে। প্রথমত, ভোটার তালিকায় স্পেশাল ইন্টেনসিভ রিভিশন ও দ্বিতীয় হল চরম প্রতিষ্ঠান বিরোধিতা। আসলে দিনের শেষে এটা নির্বাচন কনিশনের জয়। শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট দিতে পেরেছে মানুষ। এই প্রথমবার রক্তপাতহীন ভোট হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। যার নির্যাস, ব্যাপক হারে মানুষ ভোট দিয়েছেন। বুথ পর্যন্ত মানুষ নির্ভয়ে পৌঁছতে পেরেছেন।