পশ্চিমবঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারভোটের পশ্চিমবঙ্গে উদ্ধার বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরক। এমনটাই জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের দাবি গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে পশ্চিমবঙ্গে এখনও পর্যন্ত ৩৯০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৯৮ রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। আর এই সংখ্যাটা শুনেই চোখ কপালে উঠেছে নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের।
প্রসঙ্গত, আজ ২৯ এপ্রিল, দ্বিতীয় দফার ভোট। আর ঠিক তার আগেই এই পরিসংখ্যান সামনে এনেছে কমিশন। এর মাধ্যমেই তারা বোঝাতে চেয়েছে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঠিক কতটা কড়াকড়ি করা হয়েছে। এখন দেখার আজ কতটা শান্তিতে ভোট হয়।
লাইসেন্স যুক্ত অস্ত্র নিয়ে কী সিদ্ধান্ত?
ভোটের আগে আগে লাইসেন্স যুক্ত বন্দুকও জমা দিয়ে দিতে হয়। আর সেই কাজটাও অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে কমিশন বলে খবর।
তাদের তরফে দাবি করা হয়েছে, ইতিমধ্যেই লাইসেন্সপ্রাপ্ত অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মোট ৫২,৮৬৯টি লাইসেন্সধারী আগ্নেয়াস্ত্রর মধ্যে ৪১,৭০৬টি ইতিমধ্যেই জমা পড়েছে বলে কমিশনের এক আধিকারিক জানান।
বিস্ফোরক উদ্ধার
কমিশনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে এবার ভোট পর্বে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে। তাদের তরফে জানান হয়, ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে রাজ্যজুড়ে ২২২.৫৭ কেজির বেশি বিস্ফোরক বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই পর্বে মোট ৩৯০টি অস্ত্রের পাশাপাশি ১,৩৪৮টি দেশি বোমাও উদ্ধার হয়েছে।
এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত নগদ টাকা, মদ ও মাদকের বন্দোবস্তও করেছিল দুষ্কৃতীরা। আর সেটা রুখতেও তল্লাশি চালিয়েছে কমিশন। সেই মতো ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া তল্লাশিতে নগদ টাকা, মদ, মাদক এবং উপহার সামগ্রী মিলিয়ে মোট ৫৩২.৮৮ কোটি টাকার জিনিস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
নজরদারি জোরদার
কমিশনের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, এবার ভোট শান্তিপূর্ণ করার কাজে কোনও খামতি রাখা হচ্ছে না। বহস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি থেকে নজরদারি জোরদার করা, সবটাই করা হয়েছে বলে দাবি।
এছাড়া অবৈধ রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন খোলার কাজও চলছে। এমনকী সরকারি-বেসরকারি সম্পত্তির দেওয়াল লিখন মুছতে রাজ্যজুড়ে ২৩.৪৯ লক্ষেরও বেশি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, আজ হল দ্বিতীয় দফার ভোট। আজ ১৪২টি কেন্দ্রে নির্বাচন। আর তাই নিয়েই কড়া নিরপত্তায় মুড়ে ফেলা হয়েছে। বুথে বুথে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। পাশাপাশি ওয়েবকাস্টিংও করা হচ্ছে। ভোটের ফলাফল বেরবে ৪ মে।