ভোট পরবর্তী বাংলায় কেন্দ্রীয় বাহিনীনজিরবিহীন ভোট দেখেছে বাংলা। দুই দফার নির্বাচনে অশান্তির ঘটনা হাতে গোনা। উল্টে স্বাধীনতার পর এই প্রথম রেকর্ড মানুষ ভোট দিলেন। নিজের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করলেন নিজের হাতে। আর ভোটের পরও যাতে বাংলায় এহেন শান্তি বজায় থাকে, সেটা নিশ্চিত করতে চাইছে কমিশন। সেই মতো ভোটের পরও রাজ্যে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে খবর, ভোটগ্রহণ পর্ব শেষ হওয়ার পরই বাংলায় মোতায়েন থাকবে ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (সিএপিফ)। ১৯ মার্চ ২০২৬ জারি করা সিএপিএফ মোতায়েন পরিকল্পনা অনুযায়ীই এই বিশাল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকতে চলেছে বাংলায়। এই বাহিনী পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলারক্ষার কাজটা করবে বলে জানা যাচ্ছে।
মাথায় রাখতে হবে, এবার ভোটের সময় রাজ্য আড়ই লক্ষেরও বেশি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি বুথেই বাহিনীর জওয়ানরা উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা এলাকায় নিয়মিত রুট মার্চ করেছেন। সাধারণ মানুষকে অভয় দিয়েছেন। কোথাও গন্ডগোল দেখলেই নিয়েছেন কড়া ব্যবস্থা। আর সেই কারণেই ভোট মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।
আর ভোটপর্ব যেমন ভাল কেটেছে, ঠিক তেমনই নির্বাচন পরবর্তী সময়ও শান্তি বজায় রাখতে চাইছে কমিশন। সেই মতো আগেভাগেই প্ল্যানিং করে রাখা হয়েছে বলে খবর। আর সেই লক্ষ্যেই এবার পশ্চিমবঙ্গে ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস রুখতে ৭০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়ে দিল কমিশন।
কতদিন থাকবে?
এই বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলেনি কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে জানান হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই বিপুল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে রাজ্যে। তবে পরবর্তী নির্দেশ কবে দেওয়া হবে, সেই সম্পর্কে কোনও কিছুই জানান হয়নি।
কমিশন সূত্রে দাবি, এখনও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর থেকে রাশ ছাড়তে চাইছে না কমিশন। তারা নির্বাচন পরবর্তী হিংসার কথা মাথায় রেখে একাধিক প্ল্যানিং সেরে রেখেছে। সেই পরিকল্পনারই অংশ এই বিশাল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে রেখে দেওয়া হচ্ছে। এখন শুধু তারা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। ভোটের ফলাফল বেরনোর পর কেমন থাকে রাজ্যের আবহাওয়া, সেটাই দেখতে চাইছে কমিশন। তারপরই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।