চন্দ্রনাথ রথের মৃত্যুতে কী দাবি শমীকের?বুধবার রাতেই ফের উত্তপ্ত বাংলা। মধ্যমগ্রামে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।
যতদূর খবর, বুধবার রাতে একটি স্করপিও গাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময়ই হঠাৎ তাঁর গাড়ির সামনে চলে আসে একটি ধূসর রঙের ছোট গাড়ি (নিসান মাইক্রা)। অভিযোগ, স্করপিয়ো থামতেই পিছন দিক থেকে একটি মোটরবাইক এসে পৌঁছয়। বাইকে থাকা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। সূত্রের দাবি, চন্দ্রনাথকে লক্ষ্য করে একাধিক গুলি চালানো হয়। তাঁর বুকে তিনটি এবং পেটের কাছে একটি গুলি লাগে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে। তারপরই গুলি চালায় আততায়ীরা। ঘটনাটি ঘটে বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামে।
এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। অনেকেই এই ঘটনার জন্য দায়ী করছেন তৃণমূল কংগ্রেসকে। যদিও তৃণমূলও এর নিন্দা করেছে।
মাথায় রাখতে হবে, বাংলায় ভোটের ফলাফল ঘোষণা হওয়ার পরই উত্তপ্ত হয়েছে পরিস্থিতি। একাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর। এমনকী অনেকের উপর হয়েছে আক্রমণ। এখন দেখার কত তাড়াতাড়ি পরিস্থিতি হাতের নাগালে আসে।
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্তে একটি সিট (SIT) গঠন করা হল। একজন আইজির নেতৃত্বে SIT গঠন করা হল। সিটে বিভিন্ন জায়গার পুলিশ কর্মকর্তা ও টিমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার সম্পূর্ণ তদন্ত করবে তাঁরা।
'এখনও পর্যন্ত আমাদের রাজ্যে নির্বাচনী নিয়ম লাগু আছে। আমি ৮ মাস ধরে বলে আসছি যে, তৃণমূল সরকার চলে গেছে। কিন্তু সরকার চলে যাওয়ার পর অস্থিরতা তৈরি হবে। তৃণমূল তৃণমূলকেই মারবে। আমাদের দলের কেউ থাকলে, আজ বিকেলে দল থেকে তাড়িয়ে দেব। এরাজ্যের মানুষের আবেগের ওপর আমাদের সম্মান রয়েছে।'
চন্দ্রনাথ রথ হত্যাকাণ্ডের ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে ফরেনসিক দল। গুলির খোলা সহ প্রমাণ সংগ্রহ করা হচ্ছে।
শমীক ভট্টাচার্য বলেন, 'গতকাল খবর অনুযায়ী চার রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছিল, যাতে আমাদের দলের তিনজন কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। রাজারহাট থেকেও আরও একটি মৃত্যুর খবর এসেছে। অর্থাৎ, নির্বাচন আমরা জিতেছি, অথচ মরতে হচ্ছে আমাদেরই কর্মীদের। এই জয় যদি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেসের হতো, তাহলে এতক্ষণে সম্ভবত ২০০-রও বেশি খুন হয়ে যেত।'
সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হতে পারে। তাঁর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে তিনি সিআরপিএফের জেড ক্যাটাগরির নিরাপত্তা পান।
বিজেপি নেতা ও বিধায়ক দিলীপ ঘোষ বললেন, 'ওঁর (শুভেন্দু অধিকারীর) ব্যক্তিগত সহকারীর উপর হামলা হয়েছে। এই ধরনের ঘটনা বন্ধ হওয়া উচিত। বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে ঠিকই, কিন্তু এখনও পুরোপুরি প্রশাসনিক ক্ষমতা তাদের হাতে আসেনি। পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। সমাজবিরোধীদের দমন করতে হবে। তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে সংঘর্ষ হচ্ছে, আর তার মধ্যে বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচার করা হচ্ছে।'
অর্জুন সিং বলেন, 'এটি নির্বাচনের পরবর্তী হিংসার ঘটনা কি না, অথবা এর পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় রয়েছেন কি না, তা তদন্তের বিষয়। তবে এটি একটি পরিকল্পিত খুন, যেখানে একজন শার্পশুটারকে ব্যবহার করা হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ কিছু পুলিশ আধিকারিক রয়েছেন, যারা এই ধরনের কাজই করে। এটি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়েরই কাজ।'
চন্দ্রনাথ খুনের পর, তাঁর মা হাসিরানি রথ বলেন, “আমি চাই দোষীদের শাস্তি হোক। আমি একজন মা, আমি চাই না তাদের ফাঁসি হোক। আমি তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই। বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই ওরা এটা করেছে। আমাদের রাজ্য সভাপতি এবং নেতারা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বারবার বলছেন। কিন্তু শাসক দলের যারা নানা উস্কানিমূলক মন্তব্য করছিল, যারা বলছিল যে ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবারা আমাদের বাঁচাতে পারবে না, ৪ তারিখের পর তারা সেটাই করে দেখিয়েছে। আমার ছেলে যদি দুর্ঘটনায় মারা যেত, তাহলে আমার এত দুঃখ হতো না। দুষ্কৃতকারীরা যেভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, এই সবই তৃণমূলের বানানো গল্প। শুভেন্দু বাবু মমতা ব্যানার্জীকে হারানোর পর থেকেই আমার পরিবার এমন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।”
শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ককে গুলি করে খুনের ঘটনার প্রতিবাদে শালবনি ব্লকের ভাদুতলায় ৬০ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরোধ। আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা।
মধ্যমগ্রামের কাছে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথের দেহ ময়নাতদন্তের জন্য বের করা হয়েছে। বারাসাত হাসপাতাল হচ্ছে তাঁর দেহের ময়নাতদন্ত।
দুষ্কৃতীদের খোঁজে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে পুলিশের পক্ষ থেকে আর এর মধ্যেই এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাথমিকভাবে অনুমান, এই খুনের পিছনে রয়েছে পেশাদার শ্যুটাররা। 'যে রাস্তা দিয়ে হামলাকারীরা পালিয়েছিল, সেটি বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে, যা যেতে ২ ঘন্টা সময় লাগে।' এমনটাই আজতককে জানিয়েছন এক প্রত্যক্ষদর্শী।
বুধবার রাতে কলকাতা থেকে ফেরার সময় মধ্যমগ্রামে খুন করা হয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর PA চন্দ্রনাথ রথকে। আর সেই ঘটনায় ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। তারা এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখছে। পাশাপাশি দুষ্কৃতীদের খোঁজে একাধিক দল গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে অনুমান, এই খুনের পিছনে রয়েছে পেশাদার শ্যুটাররা।
চন্দ্রনাথ রথ খুনের মামলায় তদন্তে সহযোগিতা করছে সিআইডি। সূত্রের খবর, এই খুনের ঘটনার তদন্তের ভার সম্পূর্ণ ভাবে নিতে পারে সিআইডি।
চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকের ছায়া তাঁর বাড়ির এলাকায়। একজন প্রতিবেশী বলেন, 'চন্দ্রনাথ আমাদের পাড়ার খুব ভাল ছেলে ছিল। সবাইকে ভালোভাবে ব্যবহার করত, মানুষের পাশে দাঁড়াত। ওর সঙ্গে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। এই ঘটনা পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।' তাঁর পরিবারের এক সদস্যের কথায়, 'রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আমি টিভি চালিয়ে দেখি, আমার ভাইয়ের ছবি দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে তাকে তিন রাউন্ড গুলি করে খুন করা হয়েছে। আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। বাড়ির সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসে। তখনই কয়েকজন প্রতিবেশী নিজেদের গাড়ি নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। আমাদের কল্পনাতেও ছিল না যে এমন ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারে।'
শুভেন্দু অধিকারীর পিএ চন্দ্রনাথকে মধ্যমগ্রামের কাছে গুলি করে খুনের ঘটনায় যে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়েছিল, তার তদন্তে নেমেছে ফরেন্সিক দল। যদিও এখনও এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনী পরাজয়ের পর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। হতাশা থেকেই তারা এমন আচরণ করছে। তারা এখন শুভেন্দু অধিকারীকে একটি বার্তা দিতে চাইছে, কার্যত বলতে চাইছে— দেখুন, আমরা কী করতে পারি।...'
সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'এটি একটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা এবং পুলিশ বিষয়টির তদন্ত করছে। ডিজিপি আমাদের জানিয়েছেন যে তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। কাউকেই ছাড়া হবে না। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সকলকে বিচারের আওতায় আনা হবে। খবর অনুযায়ী পাঁচ রাউন্ড গুলি চালানো হয়েছে। তবে আগে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট সম্পূর্ণ হোক…”
PA-এর মৃত্যু নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'এটি একটি পূর্বপরিকল্পিত খুন। ডিজিপিও একই কথা বলেছেন। ২-৩ দিন ধরে রেকি করা হয়েছিল এবং পুরো হত্যাকাণ্ডটি পরিকল্পনা করেই ঘটানো হয়েছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। এই ঘটনায় আমরা শোকাহত এবং নিন্দা জানানোর ভাষা হারিয়ে ফেলেছি। দিল্লি থেকে আমাদের পুরো নেতৃত্ব এই ঘটনার খবর নিয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার মৃতের পরিবারের সঙ্গে এবং পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিভিন্ন এলাকা থেকে দলের নেতা ও নির্বাচিত বিধায়কেরা এখানে এসেছেন। পুলিশ কিছু প্রমাণ পেয়েছে এবং তারা তদন্ত চালিয়ে যাবে।'
মধ্যমগ্রামে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হল শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। বুধবার রাতে একটি স্করপিও গাড়িতে যাচ্ছিলেন তিনি। সেই সময়ই হঠাৎ তাঁর গাড়ির সামনে চলে আসে একটি ধূসর রঙের ছোট গাড়ি (নিসান মাইক্রা)। অভিযোগ, স্করপিয়ো থামতেই পিছন দিক থেকে একটি মোটরবাইক এসে পৌঁছয়। বাইকে থাকা দুষ্কৃতীরা খুব কাছ থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। তাতেই মৃত্যু হয় তাঁর।