বুথ জ্যামিং, ছাপ্পা ভোট, রিগিং, ফলস ভোটিং কী? গণতন্ত্রের কত বাধা!

পশ্চিমবঙ্গের ভোট আর রিগিং যেন সমার্থক। এমনটাই অভিযোগ করে থাকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বামেরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তাদের বিরুদ্ধে ছাপ্পা, বুথ জ্যাম, ভোট চুরির অভিযোগ করত কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলি।

Advertisement
বুথ জ্যামিং, ছাপ্পা ভোট, রিগিং, ফলস ভোটিং কী? গণতন্ত্রের কত বাধা!বাংলার ভোট
হাইলাইটস
  • পশ্চিমবঙ্গের ভোট আর রিগিং যেন সমার্থক
  • এমনটাই অভিযোগ করে থাকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি

পশ্চিমবঙ্গের ভোট আর রিগিং যেন সমার্থক। এমনটাই অভিযোগ করে থাকে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বামেরা যখন ক্ষমতায় ছিল তখন তাদের বিরুদ্ধে ছাপ্পা, বুথ জ্যাম, ভোট চুরির অভিযোগ করত কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দলগুলি। আবার রাজ্যে যখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল ক্ষমতায় আসে তখন শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধেও একই অভিযোগ করে বিরোধীরা। সুতরাং, পশ্চিমবঙ্গে ভোটলুট, ছাপ্পার অভিযোগ কয়েক দশকের। যদিও চলতি বিধানসভা ভোটে নির্বাচন কমিশনের নজিরবিহীন তৎপরতার জেরে তেমন কোনও অভিযোগ এখনও সামনে আসেনি। 

অতীতে পশ্চিমবঙ্গে কীভাবে ভোট হয়েছে?

১৯৭২ সালের নির্বাচন। ভোটে জিতে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন কংগ্রেসের সিদ্ধার্থশঙ্কর রায়। সেই নির্বাচনে কংগ্রেসের তরফে ভোট রিগিং করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই প্রথম ভোট রিগিং শব্দবন্ধের সঙ্গে পরিচিতি হয় বাংলার মানুষের। ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসে বামেরা। সেই থেকে 'সায়েন্টিফিক রিগিং' শুরু হয় বলে অভিযোগ। যে কোনও মূল্যে ক্ষমতায় আসা, এটাই ছিল ভোট রিগিংয়ের উদ্দেশ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ১৯৭৭ থেকে ২০১১- বামেরা এই ৩৪ বছর ধরে ভোট রিগিং-কে শিল্পের পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। 

অভিযোগ, ভোট নিজেদের পক্ষে করতে বামেরা কাজ শুরু করত প্রশাসনের সহযোগিতায়। ভোটারদের মনোনয়ন জমা, ভোট কোথায় পড়ছে- সব পর্যবেক্ষণ করতেন সরকারি আধিকারিকরা। তাঁরাই ছিলেন বামেদের 'অস্ত্র'। প্রশাসনকে কাজে লাগিয়েই সেই ১৯৭৭ সাল থেকেই এইভাবেই নির্বাচনকে নিজেদের পক্ষে আনতে পেরেছিল তারা। ২০০৬ সালের বিধানসভা ভোটের সময় এই ব্যবস্থা আরও দক্ষভাবে পরিচালিত হতে শুরু করে। 

অভিযোগ, ভোটার তালিকা প্রস্তুত হওয়ার সময় থেকেই শুরু হতো কারচুপি। বিরোধী দলের সমর্থকদের নাম কেটে বাদ দেওয়া, ভুয়ো ভোটার ঢোকানো- এসব ছিল ভোটে কারচুপির অঙ্গ। এছাড়াও হিংসা তো ছিলই। বিরোধী দলের প্রার্থীদের ভয় দেখানো, হুমকি দেওয়া, বাড়িতে চাপ সৃষ্টি, সাদা থান পাঠানো, পাড়া-মহল্লায় এক ঘরে করে দেওয়া, ধর্ষণের হুমকির মতো ন্যক্কারজনক পন্থাকে অবলম্বন করা হতো ভোটে জেতার জন্য। 

Advertisement

সে যুগে ইভিএম ছিল না। ভোট হত ব্যালট পেপারে। তার সুবিধাও নিত বামেরা। অভিযোগ, প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে জানলার কাছে ব্যালট বক্স রাখা থাকত। যাতে বাম দলের কর্মীরা নজরে রাখতে পারেন, কোন ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন। এছাড়াও ব্যালট বাক্স  পুকুরে ফেলে দেওয়া, পেপার খেয়ে নিয়ে বিরোধীদের ভোট কমিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনার সাক্ষীও থেকেছে পশ্চিবঙ্গ। 

তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ভোটবাক্স পর্যন্ত পৌঁছতেও পারতেন না ভোটাররা। অভিযোগ, বিরোধী দলের সমর্থকদের আগে থেকেই হুমকি দেওয়া হত। তারপরও যাঁরা আসতেন তাঁরা এসে দেখতেন, তাঁদের ভোট পড়ে গিয়েছে।

বামেরা পশ্চিমবঙ্গ থেকে ক্ষমতায় চলে যায় ২০১১ সালে। ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। তবে ক্ষমতার পালাবদল হলেও ভোট নীতি বদলায়নি  বাংলায়। অভিযোগ বিরোধীদের। ইভিএম-এর যুগেও বিধানসভা, লোকসভা ভোটে রিগিং হয়েছে, অভিযোগ করে থাকে বিরোধীরা। 

ভোট রিগিংয়ে নানা রূপ : 

ভয়ভীতি ও ভোটার দমন: ভোটারদের, বিশেষ করে বিরোধীদের সমর্থকদের, বুথে যেতে বাধা দেওয়া এবং ভোটের দিন সকালে বা আগের রাতে ভয় দেখানো, ভোট রিগিংয়ের এই পন্থা বাংলার শাসকদলগুলির অন্যতম হাতিহার হয়ে এসেছে বছরের পর বছর ধরে। 

ভূত ভোটার : কোনও ভোটার উপস্থিত না থাকলে তার জায়গায় অন্যজনের ভোট দেওয়া- এটাও ভোট রিগিংয়ের একটা কৌশল। এক্ষেত্রে যে ভোটাররা ভোট দেয় তাদের বলা হয় ভূত ভোটার বা ভুয়ো ভোটার। 

পোলিং এজেন্ট বসতে না দেওয়া : বিরোধী দলের এজেন্টদের বুথে বসতে না দেওয়া বা জোর করে বের করে দেওয়া, আজও কোনও কোনও বুথে এমন ঘটনা ঘটে থাকে। 

বুথ দখল: ক্ষমতাসীন দলের সমর্থকরা বুথ দখল করে নির্দিষ্ট প্রতীকে সব ভোট দিয়ে দেয়।

ভোটের আগের রাতে কারচুপি: ইভিএম বা ব্যালট পেপারে প্রভাব খাটিয়ে বা বুথ লেভেল অফিসারদের মাধ্যমে ভোটার তালিকায় কারচুপির উদাহরণও আছে পশ্চিমবঙ্গে। 

২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনীর উপস্থিতিতে ভোট হচ্ছে। কাল, বুধবার দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোটগ্রহণ। ভোট রিগিং আটকাতে তৎপর কমিশন। পুলিশ প্রশাসনকে ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও অব্যবস্থা বরদাস্ত করা হবে না।

POST A COMMENT
Advertisement