সংগৃহীত ছবিভোটের ফলাফল ঘোষণার প্রহর যত ঘনিয়ে আসছে, ততই কলকাতা শহরে বাড়ছে উৎসবের আমেজ। রাজনৈতিক লড়াইয়ের পাশাপাশি এবার যেন রঙের লড়াইও জমে উঠেছে, শহরের বাজারে আবিরের চাহিদা আকাশছোঁয়া। অনেক ব্যবসায়ীই বলছেন, এই চাহিদা যেন হোলির সময়কেও টেক্কা দিচ্ছে।
বড়বাজারের পাইকারি বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে কমলা ও সবুজ রঙের আবির। এক পাইকারি বিক্রেতার কথায়, গত ১০ দিনেই তিনি হাজারের বেশি প্যাকেট কমলা রঙের আবির বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি সবুজ আবিরের চাহিদাও কম নয়। ক্রেতাদের আচরণে স্পষ্ট, রাজনৈতিক ফলাফলকে কেন্দ্র করেই এই রঙের কেনাবেচা, যেন আগাম ‘রাজনৈতিক হোলি’-র প্রস্তুতি।
শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও ক্রেতারা ভিড় জমাচ্ছেন আবির কিনতে। অনেকেই আগেভাগেই মজুত করে রাখছেন, যাতে ফলাফল ঘোষণার দিন কোনও অভাব না হয়। কিছু দোকানদার জানাচ্ছেন, গত কয়েক দিনে তাঁদের অবিক্রীত আবিরের পুরোনো স্টকও শেষ হয়ে গিয়েছে। এমনকি নতুন করে আবির কিনে আনতে হচ্ছে সোমবারের চাহিদা মেটাতে।
অন্যদিকে, মিষ্টির দোকানগুলিতেও চলছে নীরব প্রস্তুতি। নির্বাচনী জয়ের উদযাপনে মিষ্টি একটি বড় অংশ হলেও, এ বছর ব্যবসায়ীরা কিছুটা সতর্ক। আগের মতো বিপুল পরিমাণে মিষ্টি মজুত করা হয়নি। কারণ, এখনও পর্যন্ত বড় আকারে কোনও দলই নিশ্চিত ফরমায়েশ দেয়নি। অনেকেই বলছেন, ফলাফলের ‘ট্রেন্ড’ স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই শ্রেয়।
তবে আভাস মিলছে, ফল প্রকাশের পরপরই মিষ্টির চাহিদা হু-হু করে বাড়বে। রাজনৈতিক দলগুলির তরফে ইতিমধ্যেই সবুজ ও গেরুয়া রঙের মিষ্টির জন্য অনানুষ্ঠানিক বার্তা এসেছে বলেও জানা যাচ্ছে। কোথাও আবার বড় আকারের লাড্ডু বা বিশেষ সন্দেশ তৈরির প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে সীমিত পরিসরে।