রাজ্য জুড়ে মোট ২৯৩টি গণনাকেন্দ্রে ভোটগণনা হবে। সেখানে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়।Bengal Election Counting 2026: আগামিকাল সোমবার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ। তার আগে ভোটগণনাকে কেন্দ্র করে কড়া নিরাপত্তা এবং নজরদারির ব্যবস্থা নির্বাচন কমিশনের। রাজ্যজুড়ে মোট ২৯৩টি গণনাকেন্দ্রে ভোটগণনা হবে। সেখানে থাকছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। মোতায়েন করা হচ্ছে রাজ্য পুলিশ, রাজ্য সশস্ত্র পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। কমিশনের স্পষ্ট বার্তা, কোথাও কোনও বিশৃঙ্খলা বা নিরাপত্তা ভাঙার ঘটনা ঘটলে, কেন্দ্রীয় বাহিনীও তার দায় এড়াতে পারবে না।
ভোটগণনার আগে কমিশনের এই কড়া অবস্থান রাজনৈতিক মহলেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে EVM, পোস্টাল ব্যালট এবং স্ট্রংরুম ঘিরে গত কয়েক দিনে যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যেই নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্ক প্রশাসন।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে মোট ৪৫৯টি কাউন্টিং হল তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২৯টি সিঙ্গল কাউন্টিং হল এবং ১৬৩টি ডাবল কাউন্টিং হল। প্রতিটি হলে একজন করে কাউন্টিং অবজ়ারভার থাকবেন। সব মিলিয়ে মোট ৫৩৯ জন অবজ়ারভার দায়িত্বে থাকছেন।
বিশেষ কিছু কেন্দ্রের ক্ষেত্রে গণনার রাউন্ড নিয়েও আলাদা পরিকল্পনা করা হয়েছে। Metiabruz, Saptagram এবং Bijpur বিধানসভা কেন্দ্রে ১০ দফায় গণনা হবে বলে জানানো হয়েছে।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কমিশনের তরফে একাধিক কঠোর নির্দেশ জারি হয়েছে। প্রথম, দ্বিতীয় বা তৃতীয় নিরাপত্তা বলয় ভেঙে কেউ ভিতরে ঢুকলে তার দায় কেন্দ্রীয় বাহিনীকেই নিতে হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও এজেন্ট গণনাকেন্দ্র ছাড়তে পারবেন না। বেরোতে হলে রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি বাধ্যতামূলক।
কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ভোটগণনার প্রতিটি ধাপ নিয়ম মেনেই হবে। একটি সম্পূর্ণ রাউন্ডের গণনা শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনও ডেটা এন্ট্রি করা যাবে না। ইতিমধ্যেই অবজ়ারভার, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ আধিকারিক এবং জেলা প্রশাসনের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা আইনের ১৬৩ ধারা কার্যকর থাকবে। ফলে কোনও রকম জমায়েত বা উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা বরদাস্ত করা হবে না। প্রয়োজনে এই ধারার আওতা আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে প্রশাসন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সোমবার কোনও বিজয় মিছিলের অনুমতি নেই। নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিজয় উদ্যাপন করতে গেলে আগে পুলিশি অনুমতি নিতে হবে।
কমিশনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার, কাউন্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট, মাইক্রো অবজ়ারভার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের এজেন্টরা উপস্থিত থাকবেন। জাতীয় দল, রাজ্য দল এবং নির্দল প্রার্থীদের জন্য আলাদা এনক্লোজ়ারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এ বার নির্বাচনে ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কমিশনের সুপারিশেই এই রিপোল হয়। পাশাপাশি তিন জন প্রিসাইডিং অফিসার এবং এক জন বুথ লেভেল অফিসারের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশেষ করে ফলতা (Falta) এবং মগরাহাট (Magrahat) কেন্দ্র ঘিরে ওঠা অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে তদন্ত চলছে। কমিশনের বক্তব্য, যাঁরা দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিদ্যুৎ বিভ্রাট এড়াতেও আলাদা সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ দফতরের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে ভোটগণনার সময় কোথাও লোডশেডিং না হয়।
এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'সব প্রস্তুতি সম্পূর্ণ। রিটার্নিং অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসার, কাউন্টিং সুপারভাইজ়ার এবং এজেন্টদের একাধিক বার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সব কিছু নিয়ম মেনেই হবে।'
তিনি আরও জানান, ভোটগণনার জন্য ২০০ কোম্পানি CAPF মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের কাছে শান্তি বজায় রাখার আবেদনও জানিয়েছে কমিশন। প্রশাসনের বক্তব্য, ভোটের দুই দফায় বড় অশান্তি হয়নি, গণনার দিনও যাতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকে, সে দিকেই নজর রাখা হচ্ছে।