মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী রাত পোহালেই দ্বিতীয় দফার ভোট। ১৪২ আসনের এই ভোটে কেউ নবাগত, কেউ কোনওদিন হারেননি, কেউ আবার একাধিকবার পরাজিত হয়েও হাল ছাড়েননি। তবে সব আলোচনা ছাপিয়ে শিরোনামে ভবানীপুর কেন্দ্র। সেখান থেকেই লড়ছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। গতবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর কাছে হেরেছিলেন মমতা। এবার সেই শুভেন্দু নিজে দাঁড়িয়েছেন মমতার গড়ে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এবারের ভোটে বিজেপি জিতলে শুভেন্দু মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। সেই দিক থেকে বিচার করতে ভবানীপুর কেন্দ্রে দুই মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থীর ল়ড়াই।
২০২১ সালের ভোটে শুভেন্দুকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নন্দীগ্রাম আসন থেকে দাঁড়িয়েছিলেন মমতা। তবে পরাজিত হয়েছিলেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সেটা ছিল তাঁর দ্বিতীয় হার। তাও আবার নিজেরই দলের প্রাক্তন সতীর্থর কাছে। ভবানীপুরে গতবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ২৮,৭১৯ ভোটে জিতলেও উপনির্বাচনে মমতাকে এই কেন্দ্র ছেড়েছিলেন তিনি। পরে এই আসন থেকে জিতেই রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধানের আসনে বসেছিলেন মমতা।
হাড্ডাহাড্ডি লড়াই
দ্বিতীয় দফার ভোটে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন রাজনীতিবিদদের একাংশ। কারণ, প্রতি কেন্দ্রে গড়ে ১০ জনেরও বেশি প্রার্থী রয়েছেন। সব থেকে বেশি প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে ভাঙড়ে। ১৯ জন। এরপর রয়েছে এন্টালি, কলকাতা পোর্ট ও বেহালা পশ্চিম। যেখানে যত বেশি প্রার্থী থাকে সেখানে লড়াইও যেমন কঠিন হয়। তেমনই জয়ের ব্যবধানও কমে যায়, এটাই হয়ে এসেছে বিগত দিনের নির্বাচনগুলিতে।
২০২১ সালে এমন ১০টি আসন ছিল যেখানে প্রার্থীরা জিতেছিলেন খুব সামান্য ভোটের ব্যবধানে। যেমন, বনগাঁ দক্ষিণে বিজেপির স্বপন মজুমদার জয় ছিনিয়ে নিয়েছিলেন মাত্র ২,০০৪ ভোট বেশি পেয়ে। শতাংশের হিসেবে ব্যবধান ছিল মাত্র ০.৯৬।
ক্লোজ ফাইটের দিক থেকে দ্বিতীয়তে ছিল কল্যাণী কেন্দ্র। সেখানকার পদ্মপ্রার্থী অম্বিকা রায় জিতেছিলেন মাত্র ২,২০৬ ভোটে। এবারও সেই কেন্দ্রে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা আছে। হাবড়া কেন্দ্র থেকে মাত্র ৩,৮৪১ ভোটে জিতেছিলেন জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক।
এবারের দ্বিতীয় দফার ভোটে ২০২১ সালের সবচেয়ে কাছাকাছি ১০টি আসনের মোট জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ৫৩,৭৩৭ ভোট। যা প্রায় অর্ধেক একটি কেন্দ্রের মোট ভোটারের চেয়েও কম। এই আসনগুলির মধ্যে ৬টি ধরে রেখেছে তৃণমূল কংগ্রেস। ৪টি বিজেপি।
নজরে ভোটদানের হার
দ্বিতীয় দফার ভোট এই কারণেও গুরুত্বপূর্ণ যে, এই আসনগুলিতে অতীতে ভোটদানের হার তুলনামূলক কম ছিল। ২০১১ সালে এই ১৪২ আসনে গড় ভোটদানের হার ছিল ৮৩.৯%। যা ২০২১ সালে কমে দাঁড়ায় ৮০.৯%-এ। গতবার কলকাতায় ভোট পড়ছিল ৬০ শতাংশের সামান্য বেশি। একই সময়ে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ভোটের হার কমেছে ৪.৮ শতাংশ। তবে পূর্ব বর্ধমানে ২০২১ সালে ভোট ভালো পড়েছিল। ৮৬ শতাংশের সামান্য বেশি।
বুধবারের ভোটে কমেছে ভোটারের সংখ্যাও। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই ১৪২টি আসনে ভোটার প্রায় ৩.২২ কোটি। ২০২১ সালের ৩.৫৬ কোটির তুলনায় প্রায় ৩৪ লক্ষ কম। অর্থাৎ, কমেছে প্রায় ৯.৬ শতাংশ।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, যদি প্রথম দফার ধারা অনুসরণ করে দ্বিতীয় দফা তাহলে ভোটদানের হার ৯০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে। যা ২০১১ সালের ৮৪.৭ শতাংশের রেকর্ডকেও ছাপিয়ে যাবে। ২০১১ সালের পর থেকে দ্বিতীয় দফার জেলাগুলিতে কখনও ৯০ শতাংশের বেশি ভোট পড়েনি। তাই কত শতাংশ ভোট পড়বে তার দিকেও নজর থাকবে।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের এও দাবি, প্রথম দফার ভোটের পর তৃণমূল ও বিজেপি দুই পক্ষই বেশি আসন পাওয়ার দাবি করলেও ওই এলাকার বেশিরভাগই বিজেপির গড় বলে পরিচিত। আবার এই দফার অনেক এলাকা তৃণমূলের ঘাঁটি। তাই বুধবারের ভোটই হতে পারে নির্ণায়ক।