শুভেন্দু অধিকারী।-ফাইল ছবিপ্রথম দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার নিরিখে শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বিজেপি। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ওয়েস্ট বেঙ্গল ইলেকশন ওয়াচের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, বিজেপির ১৫২ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জনের (প্রায় ৭০ শতাংশ) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে ৯৬ জনের বিরুদ্ধে রয়েছে গুরুতর অপরাধের অভিযোগ, যার মধ্যে খুন, খুনের চেষ্টা এবং মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের মতো অভিযোগও রয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামেই রয়েছে সর্বাধিক ২৯টি মামলা।
মোট ১৭৪৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ৩৪৫ জন (২৩ শতাংশ) তাঁদের হলফনামায় ফৌজদারি মামলার কথা উল্লেখ করেছেন। এর মধ্যে ২৯৪ জনের (২০ শতাংশ) বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। খুনের মামলা রয়েছে ১৯ জনের বিরুদ্ধে, আর খুনের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে ১০৫ জনের বিরুদ্ধে। মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে ৯৮ জনের বিরুদ্ধে, যার মধ্যে ধর্ষণের মামলায় অভিযুক্ত ৬ জন।
দলগত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেসের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৬৩ জনের (৪০ শতাংশ) বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ৪৮ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ। সিপিএমের ৯৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ৪৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে, গুরুতর অভিযোগ রয়েছে ৩৬ জনের বিরুদ্ধে। কংগ্রেসের ১৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম, ৩৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা, যার মধ্যে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, ১৫২টি আসনের মধ্যে ৬৬টি (৪০ শতাংশ) আসনে তিন বা তার বেশি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলিকে ‘রেড অ্যালার্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
শুধু অপরাধমূলক রেকর্ড নয়, প্রার্থীদের সম্পদ ও শিক্ষাগত যোগ্যতার ছবিও তুলে ধরা হয়েছে রিপোর্টে। মোট ৩০৯ জন প্রার্থী (২১ শতাংশ) কোটিপতি। তৃণমূলের ১৪৮ জন প্রার্থীর মধ্যে ১০৬ জন কোটিপতি, বিজেপিতে ৭১ জন, কংগ্রেসে ৫০ জন এবং সিপিএমে ২৪ জন।
সবচেয়ে ধনী প্রার্থী মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরের তৃণমূল প্রার্থী জাকির হুসেন। যাঁর সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ১৩৩ কোটি টাকা। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন বড়জোড়ার গৌতম মিশ্র (১০৫ কোটি) এবং তৃতীয় স্থানে দুর্গাপুর পশ্চিমের কবি দত্ত (৭২ কোটি)।
ঋণের দিক থেকেও কয়েকজন প্রার্থী নজরে এসেছেন। বড়জোড়ার গৌতম মিশ্রর ২৫ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে। খেজুরির রবিন মণ্ডলের ঋণ ২৩ কোটি টাকা এবং ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মোতাব শেখের ঋণ ১৩ কোটি টাকা।
শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও বৈচিত্র্য দেখা গিয়েছে। ৭০৮ জন প্রার্থীর শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির মধ্যে, ৬৯৮ জন স্নাতক বা তার বেশি ডিগ্রিধারী। ২৯ জন শুধু সই করতে পারেন, আর ১৪ জন নিজেদের নিরক্ষর বলে জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, প্রথম দফার নির্বাচনে প্রার্থীদের অপরাধমূলক রেকর্ড, আর্থিক অবস্থান এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার এই চিত্র রাজ্যের রাজনৈতিক বাস্তবতাকে নতুন করে সামনে তুলে ধরেছে।