কীভাবে বিজেপির নির্বাচনী গঙ্গাকে বিহার থেকে বাংলায় আনলেন PM?বাংলায় ভোটগণনা কার্যত চূড়ান্ত হওয়ার পথে। আর ছাব্বিশের নির্বাচনে বড় চমক দিয়েছে গেরুয়া শিবির। কার্যত পাশা উল্টে প্রায় ২০০ আসনে এগিয়ে থাকার ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে বিজেপির পক্ষে। বলা যায় বাংলায় শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এখন বিহার থেকে বাংলায় এসে পৌঁছল বিজেপির জয়যাত্রা।
গঙ্গার যাত্রাপথের সঙ্গে বিজেপির এই জয়যাত্রার তুলনা করা যেতে পারে। একসময় উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতায় ছিল বিজেপি। এরপর উত্তর প্রদেশ ও বিহারে ফোটে পদ্মফুল। কিন্তু দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও বাংলার রঙ গেরুয়া করতে পারছিল না বিজেপি। অবশেষে ছাব্বিশের নির্বাচনে ফলাফল যেদিকে যাচ্ছে, তাতে স্পষ্ট পূর্বাঞ্চলের ভাগ্যে এক নতুন অধ্যায় লেখার সময় এসেছে।
৪ মে বিকেলে নির্বাচনী ফলাফলে বিজেপির ব্যাপক জয়ের পর কলকাতার কালীঘাট থেকে দিল্লির দীনদয়াল উপাধ্যায় মার্গ পর্যন্ত আলোচনা চলছে বিজেপির এই বঙ্গজয় দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর কী প্রভাব পড়তে পারে তা নিয়ে।
পাটনা থেকে কলকাতা: গঙ্গার রাজনৈতিক প্রবাহ
এই পুরো নির্বাচন বুঝতে হলে বিহার নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার সন্ধ্যার দিকে ফিরে তাকাতে হবে। দিল্লিতে বিজেপির সদর দফতরে যখন দলীয় কর্মীদের ভিড় জমছিল, তখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী একটি তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। বিহারের বিজয়কে 'উন্নয়নের বিজয়' হিসেবে বর্ণনা করে তিনি ইঙ্গিত দেন যে, পাটনার যে 'গঙ্গা' বিজেপিকে বিজয় এনে দিয়েছিল, তা এবার বাংলার দিকে ফিরবে। বাংলায় বিজেপির এই জয় প্রমাণ হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রীর এই মন্তব্যটি শুধু একটি নির্বাচনী স্লোগান ছিল না, বরং তা ছিল একটি সুচিন্তিত রাজনৈতিক কৌশল।
গঙ্গাকে বিজেপির নির্বাচনী জয়যাত্রার সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যাচ্ছে, বিহারে NDA-র নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিজেপির আত্মবিশ্বাস ছিল তুঙ্গে। কিন্তু মোদী জানতেন, 'গঙ্গা'র জন্য সামনের রাস্তাটা সহজ হবে না। সেদিন থেকেই 'ভগীরথ প্রয়াস' শুরু হয়েছিল। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, বিজেপির জন্য বাংলা আর শুধু একটি রাজ্য নয়, বরং একটি ব্রত। ঠিক যেমন ভগীরথ গঙ্গাকে মাটিতে নামানোর জন্য কঠোর তপস্যা করেছিলেন, তেমনি প্রধানমন্ত্রীও বাংলায় ক্ষমতার শিখরে পৌঁছানোর জন্য সমস্ত শক্তি উৎসর্গ করেছিলেন।