পদত্যাগে না মমতার, ভোট পরবর্তী হিংসা থামাতে বার্তা শুভেন্দু, শমীকেরপনেরো বছর পর বঙ্গে ক্ষমতার পালাবদল। ২০০-র বেশি আসন পেয়ে তৃণমূলকে ব্যাপক মার্জিনে পদর্যুস্ত করে জয়ী হয়েছে বিজেপি। ৪ মে নির্বাচনে ফলাফল প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্যজুড়ে দেখা যাচ্ছে ভিন্ন চিত্র। একদিকে ক্রমাগত অভিযোগ করে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়, অন্যদিকে সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিজেপি। এরমধ্যেই চলছে উল্লাস। কোথাও আমজনতাকে অভয়বাণী শোনাচ্ছেন বিজেপি সমর্থকেরা, আবার কোথাও চলছে ঘাসফুল শিবিরের পার্টি অফিস দখল। এমনকী ৩ টি মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় আর কী কী হল? দেখে নেওয়া যাক-
১০০-এর বেশি আসন লুটের অভিযোগ মমতার
৪ মে, সোমবার বিকেলের দিকে ফলাফল স্পষ্ট হতেই শাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলে যান TMC নেত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, "১০০-এর বেশি আসন লুট করা হয়েছে।" পাশাপাশি তৃণমূল সুপ্রিমোর অভিযোগ করে বলেন, “আমাকে ভিতরে ঢুকতে দিচ্ছে না। পুরোটা একতরফা। ধাক্কা দিয়েছে, মেরেছে। সিআরপিএফ-এর সামনে।”
রাতেই একের পর এক TMC পার্টি অফিসে হামলা
বিজেপির জয় স্পষ্ট হতেই হামলা চলে জেলায় জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক কার্যালয়ে। মধ্যমগ্রাম, পানিহাটি, মেদিনীপুর শহরের পার্টি অফিস ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়াও, কোচবিহার, হাওড়া ও মুর্শিদাবাদেও হামলার ঘটনা ঘটে। রাতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় সেইসব হামলা ছবি ও ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে TMC। ঘাসফুল শিবিরের তরফে এই হামলার দায় চাপানো হয় বিজেপির উপর। যদিও বিজেপি স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, এই হামলার সঙ্গে বিজেপির কেউ জড়িত নয়।
রাজ্য়জুড়ে উদযাপন
বিজেপির জয় নিশ্চিত হতেই বিভিন্ন জেলায় বিজয় মিছিল, আবির খেলা ও গেরুয়া পতাকা নিয়ে উদযাপন শুরু হয়। পাশাপাশি কলকাতাতেও দেখা যায় বাইক ব়্যালি। বহু বিজেপি সমর্থক রাস্তায় নেমে গেরুয়া আবির নিয়ে উৎসবে শামিল হন।
'মুখ্যমন্ত্রীর পদ' ছাড়বেন না, জানালেন মমতা
মঙ্গলবার বিকালে মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায় জানান তিনি মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেবেন না। কারণ, তিনি হারেননি। তাই লোকভবনে যাওয়ার প্রশ্নই নেই। মমতা বলেছেন, ‘‘কেন পদত্যাগ করব? আমরা তো হারিনি। জোর করে ভোট লুট করা হয়েছে। ইস্তফার প্রশ্ন আসছে কোথা থেকে?’’
নিউ মার্কেটে ভাঙচুরের অভিযোগ
নিউ মার্কেটে মঙ্গলবার সন্ধ্য়ের পরেই আচমকাই একদল লোক বুলডোজার নিয়ে চড়াও হয়। সেখানে ভাঙচুর চালানো হয়। কয়েকটি পরিকাঠামো ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউ মার্কেট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী। তবে ততক্ষণে বুলডোজার ফেলে চম্পট দিয়েছে হামলাকারীরা। মধ্যরাতের এই তান্ডবের জেরে বাজারে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
হিংসা থামাতে বার্তা শুভেন্দু ও শমীকের
রাজ্যজুড়ে ভোট পরবর্তী হিংসা ছড়িয়ে পড়তেই আসরে নামে বঙ্গ বিজেপি। BJP-র রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য ভোট-পরবর্তী হিংসা রুখতে আর্জি জানান মুখ্যসচিবের কাছে। পাশাপাশি ভোট-পরবর্তী হিংসা নিয়ে মঙ্গলবার বিজেপির শীর্ষনেতৃত্ব বিধাননগরের দফতরে বৈঠকও করে। শমীক বলেন, ‘‘বিজেপির পতাকা নিয়ে অনেক জায়গায় ভাঙচুর করা হচ্ছে বলে শুনেছি। এর বিরোধিতা করছি। কেউ এমন করলে আমরা তাঁকে দল থেকে বার করে দিতে বাধ্য হব।’’
পাশাপাশি বুধবার নন্দীগ্রাম থেকে বার্তা দেন শুভেন্দু অধিকারীও। দলের কর্মী সমর্থকদের হিংসা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়ে বললেন, “আইনি পথে সকলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না।”