Suvendu Adhikariকেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করেও হিংসা থামানো যাচ্ছে না। রাজনৈতিক হিংসা বাড়ছে। তার শিকার হয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই মর্মে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ গেরুয়া শিবির।
বৃহস্পতিবার বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়, দলের শীর্ষ নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উপর হামলা করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা। হাওড়া জেলার শিবপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ১৬৯ নম্বর বুথ এলাকায় শান্তিপূর্ণ প্রচার শেষে ফেরার সময় শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য কর্মীদের উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকরা প্রথমে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে তারপর আক্রমণ চালায়। এই ঘটনায় একাধিক কর্মী জখম হন। গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলেও অভিযোগ।
বিজেপির বক্তব্য, পশ্চিমবঙ্গে ভোট পূর্ববর্তী হিংসা কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। গত কয়েকদিনে কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় একাধিকবার দলীয় কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। কোথাও মারধর, কোথাও প্রচার সামগ্রী নষ্ট করা, আবার কোথাও অনুমতি থাকা সত্ত্বেও প্রচারে বাধা দেওয়ার মতো ঘটনাও সামনে এসেছে। বিজেপির আরও দাবি, তাদের কর্মী ও প্রার্থীদের পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা দেওয়া হয়নি।
এই প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে একাধিক দাবি জানিয়েছে বিজেপি। তাদের দাবি, হাওড়ার ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের বিরুদ্ধে দ্রুত এফআইআর দায়ের করতে হবে এবং নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু করতে হবে। পাশাপাশি সংবেদনশীল এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী (CAPF) মোতায়েনের দাবি জানানো হয়েছে। এছাড়া দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিজেপি তাদের আবেদনে আরও জানিয়েছে, যাতে সব রাজনৈতিক দল নির্বিঘ্নে প্রচার চালাতে পারে, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ জারি করতে হবে। পাশাপাশি, রাজ্যে ধারাবাহিকভাবে যে হিংসার ঘটনা ঘটছে, তার উপর একটি স্বাধীন তদন্তেরও দাবি জানানো হয়েছে। বিজেপির মতে, এই ধরনের ঘটনাগুলি নির্বাচনী প্রক্রিয়ার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করছে। গণতান্ত্রিক কাঠামোর উপর বড়সড় প্রভাব ফেলছে। তারা মনে করছে, দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
এখন সব নজর নির্বাচন কমিশনের দিকে। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন কী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এবং রাজ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে কতটা সফল হয়, সেটাই দেখার।