কে ছিলেন চন্দ্রনাথ রথভোট পরবর্তী হিংসায় উত্তপ্ত মধ্যমগ্রাম। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে খুনের ঘটনার পর থেকেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। বিভিন্ন জায়গায় চলছে তল্লাশি। এর মধ্যেই এক প্রত্যক্ষদর্শীর চাঞ্চল্যকর বয়ান সামনে এল। আজতককে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি যা জানালেন তাতে চমকে উঠতে হয়।
কী জানালান ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী?
চন্দ্রনাথ রথের গুলি লাগার পর, তাঁকে উদ্ধার করেছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের মধ্যে একজন আজতককে বিস্তারিত ভাবে জানান, কীভাবে হামলাকারীদের গাড়িটি চন্দ্রনাথের গাড়ি থামিয়েছিল। যে রাস্তা দিয়ে হামলাকারীরা পালিয়েছিল, সেটি বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে চলে গিয়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও জানান, এই রাস্তা দিয়ে বাংলাদেশ সীমান্ত অবধি যেতে ২ ঘন্টা সময় লাগে। অর্থাৎ দুষ্কৃতিরা বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে সেদেশে আশ্রয় নিতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা।
শোকের ছায়া চন্দ্রনাথের পরিবারে
বুধবনার রাতে চন্দ্রনাথের মৃত্যুতে শোকের ছায়া তাঁর বাড়ির এলাকায়। একজন প্রতিবেশী বলেন, 'চন্দ্রনাথ আমাদের পাড়ার খুব ভাল ছেলে ছিল। সবাইকে ভালোভাবে ব্যবহার করত, মানুষের পাশে দাঁড়াত। ওর সঙ্গে এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটতে পারে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। এই ঘটনা পুরোপুরি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফল। আমরা এই ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। দোষীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।' তাঁর পরিবারের এক সদস্যের কথায়, 'রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আমি টিভি চালিয়ে দেখি, আমার ভাইয়ের ছবি দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে তাকে তিন রাউন্ড গুলি করে খুন করা হয়েছে। আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। বাড়ির সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসে। তখনই কয়েকজন প্রতিবেশী নিজেদের গাড়ি নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। আমাদের কল্পনাতেও ছিল না যে এমন ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারে।'
ঠিক কী ঘটেছিল?
বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মধ্যমগ্রামের দলতলার কাছে মোটরসাইকেল আরোহী দুষ্কৃতকারীরা রথকে আটকায়। তারা তার গাড়ির পিছু নেয়, সেটিকে থামতে বাধ্য করে এবং পালিয়ে যাওয়ার আগে গুলি চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা দাবি করেছেন, রথকে বহনকারী গাড়িটিকে প্রথমে দোহারিয়া জংশনের কাছে একটি ছোট চার চাকার গাড়ি আটকে দেয়, এরপর একজন মোটরসাইকেল আরোহী গাড়িটির কাছে এসে খুব কাছ থেকে গুলি চালাতে শুরু করে। যদিও এখনও এই ঘটনায় কাউকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।