মায়ের অভিযোগগতকাল রাতে মধ্যমগ্রামে প্রকাশ্য রাস্তায় আততায়ীদের হাতে গুলিবিদ্ধ হন শুভেন্দু অধিকারীর আত্মসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ। তাঁর বুকের বাঁ দিকে দুটো গুলি লেগেছে।। ফলে হাসপাতালে নিয়ে যেতে যেতেই তাঁর মৃত্যু হয়। স্বাভাবিকভাবেই চন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে চন্দ্রনাথের পাড়ায়।
ফাঁসি নয়, দোষীদের যাবজ্জীবন চাইছেন চন্দ্রনাথের মা
যদিও ছেলের আততায়ীদের ফাঁসির দাবি করছেন না চন্দ্রের মা হাসিরানি রথ। তিনি বলেন, 'আমি চাই দোষীদের শাস্তি হোক। আমি একজন মা, আমি চাই না তাদের ফাঁসি হোক। আমি তাদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চাই। বিজেপি ক্ষমতায় এসেছে বলেই ওরা এটা করেছে। আমাদের রাজ্য সভাপতি এবং নেতারা রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার কথা বারবার বলছেন।'
অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে
এই ঘটনায় তাঁর অভিযোগের তীর তৃণমূলের দিকে। তিনি বলেন, 'শাসক দলের যারা নানা উস্কানিমূলক মন্তব্য করছিল, যারা বলছিল যে ৪ তারিখের পর দিল্লির বাবারা আমাদের বাঁচাতে পারবে না, ৪ তারিখের পর তারা সেটাই করে দেখিয়েছে। আমার ছেলে যদি দুর্ঘটনায় মারা যেত, তাহলে আমার এত দুঃখ হতো না। দুষ্কৃতকারীরা যেভাবে আমার ছেলেকে নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে, এই সবই তৃণমূলের বানানো গল্প। শুভেন্দু বাবু মমতা ব্যানার্জীকে হারানোর পর থেকেই আমার পরিবার এমন বিপদের সম্মুখীন হচ্ছে।'
পরিবারের সদস্যরা কী বলছেন?
পরিবারের এক সদস্যের কথায়, 'রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ আমি টিভি চালিয়ে দেখি, আমার ভাইয়ের ছবি দেখানো হচ্ছে। বলা হচ্ছে তাকে তিন রাউন্ড গুলি করে খুন করা হয়েছে। আমরা পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিলাম। বাড়ির সবাই কান্নায় ভেঙে পড়ে। প্রতিবেশীরাও ছুটে আসে। তখনই কয়েকজন প্রতিবেশী নিজেদের গাড়ি নিয়ে কলকাতার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। আমাদের কল্পনাতেও ছিল না যে এমন ভয়াবহ ঘটনা আমাদের সঙ্গে ঘটতে পারে।'
বিজেপি নেতা কৌস্তভ বাগচী বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের নেতাকর্মীরা এই নির্বাচনী পরাজয়ের পর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়েছেন। হতাশা থেকেই তারা এমন আচরণ করছে। তারা এখন শুভেন্দু অধিকারীকে একটি বার্তা দিতে চাইছে, কার্যত বলতে চাইছে— দেখুন, আমরা কী করতে পারি।'