সিভিক ভলেন্টিয়র, গ্রিন পুলিশকে ভোটে ব্যবহার নয়ভোটে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিল নির্বাচন কমিশন। এবার সিভিক ভলান্টিয়ারদের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া শুরু করেছে কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ। সেখানে স্পষ্ট জানাতে হচ্ছে, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নন এবং সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, নির্বাচনের কাজে সিভিক ভলান্টিয়ার বা ভিলেজ পুলিশকে ব্যবহার করা যাবে না। ভোটের দিন তাঁদের পুলিশ লাইনে থাকতে হবে। তবুও কমিশন আশ্বস্ত নয়। অতীতে অভিযোগ উঠেছে, নিয়ম ভেঙে সিভিক ও ভিলেজ পুলিশকে ভোটের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। এমনকি কারও কারও বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচার করা বা ভোটের দিন দলীয় ক্যাম্পে উপস্থিত থাকার অভিযোগও রয়েছে।
এই প্রেক্ষিতেই এবার কড়া অবস্থান নিয়েছে কমিশন। লক্ষ্য একটাই, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ রাখা। তাই সিভিক ও ভিলেজ পুলিশকে আইনি কাঠামোর মধ্যে এনে তাদের ভূমিকা আরও নিয়ন্ত্রিত করতে চাইছে কমিশন, যাতে নিয়ম ভাঙলেই সরাসরি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
নির্দেশ মেনে ইতিমধ্যেই একটি নির্দিষ্ট ফরম্যাট তৈরি করে সিভিক ভলান্টিয়ারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। সেই মুচলেকায় তাঁদের লিখিতভাবে জানাতে হচ্ছে, তাঁরা কোনও রাজনৈতিক কার্যকলাপে যুক্ত হবেন না, কোনও দলের হয়ে প্রচার করবেন না, এমনকি প্রকাশ্যে কাউকে সমর্থনও জানাবেন না। পাশাপাশি, নির্বাচনের আদর্শ আচরণবিধি মেনে চলার অঙ্গীকারও করতে হচ্ছে।
এছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে সাদা পোশাকে ডিউটিতে থাকলেও তাঁদের নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে হবে। এই নির্দেশ অমান্য করলে বিভাগীয় শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার রাত থেকেই বিভিন্ন জেলায় সিভিক ভলান্টিয়াররা এই মুচলেকা জমা দিতে শুরু করেছেন। সব নথি সংগ্রহ করে তা নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। কমিশনের হুঁশিয়ারি, ভোটের দিন কোনওরকম গড়বড় ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট সিভিক ভলান্টিয়ারের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে।