গুলাম আহমেদ মীর২০২৬-এর ভোটে প্রত্যাবর্তন না পরিবর্তন? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞের মনে। যদিও এই নির্বাচনে কারা জয়ী হতে পারে, সেই বিষয়ে ভবিষ্যদ্বাণী করে দিল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। তাদের দাবি, এবারের ভোটে পশ্চিমবঙ্গে একক বৃহত্তম দল হবে তৃণমূল কংগ্রেস।
এই বিষয়টা নিয়ে মুখ খুলেছেন পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস ইনচার্জ গুলাম আহমেদ মীর। তিনি জানান, সরকার বিরোধীতা থাকলেও তৃণমূল কংগ্রেসই ভোটারদের প্রথম পছন্দ ছিল। টিএমসি-এর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের কারণেই সাধারণ মানুষ তাদের পাশে রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'ভোটারদের মতে বিজেপি একদিকে নারী সংরক্ষণ বিল নিয়ে আসে। কিন্তু একই সঙ্গে পুরো বিজেপির মেশিনারি দেশের একমাত্র মহিলা মুখ্যমন্ত্রীকে সরাতে চায়। সেই কারণেই বিজেপির তুলনায় তৃণমূল এগিয়ে রয়েছে।'
নিজের বক্তব্যে তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে জোটের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন গুলাম। তিনি জানান, কংগ্রেস ২০টি আসনে লড়াই করছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী ৪ মে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মাথায় রাখতে হবে, বুধবার বাংলার দ্বিতীয় দফার ভোটের পরই একাধিক এগজিট পোলের ফলাফল সামনে এসেছে। সেখানে কয়েকটি বুথ ফেরত সমীক্ষায় বিজেপি সরকার গড়ছে বলে আভাস দেওয়া হয়েছে। আবার কয়েকটিতে এগিয়ে রাখা হয়েছে তৃণমূলকে। আর এমন পরিস্থিতিতেই মুখ খুলল ভারতের জাতীয় কংগ্রেস। তাদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবাংলায় মসনদে বসতে চলেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল এককভাবেই ক্ষমতা দখল করতে চলেছে।
যদিও এর পাল্টা ভাষ্য দিয়েছে বিজেপিও। তাঁদের দলের একাধিক শীর্ষ নেতার বক্তব্য, দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি। বাংলার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তারা তৃণমূলের সংখ্যালঘু তোষণ, চুরি, দুর্নীতিতে বিরক্ত। তাই গেরুয়া বাহিনীই সব ভোট পেয়েছে। সেই মতো বিজেপি সরকার গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছে। এখন শুধু আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের অপেক্ষা।
কিন্তু গতকাল ভোট দেওয়ার পরই বিজেপির এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন খোদ মমতা। ভবানীপুরে ভোট দেওয়ার পরই তৃণমূলের জয় নিশ্চিত বলে জানিয়েছিলেন তিনি। এবার ভোটে দুই তৃতীয়াংশ আসন নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসছে বলে তিনি ঘোষণা করে দেন। আর আজ তাঁর কথার রেশ ধরেই কংগ্রেসও দাবি করল তৃণমূলই আসছে ক্ষমতায়। (প্রতিবেদক: রাহুল গৌতম)