'সামরিক কায়দায় বাংলা দখল হচ্ছে', কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বৈঠক নিয়ে বিস্ফোরক TMC

এই বৈঠকে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনমুখী কোনও রাজ্যে এত বড় পরিসরে এমন বৈঠক অতীতে খুব কমই দেখা গিয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।

Advertisement
'সামরিক কায়দায় বাংলা দখল হচ্ছে', কলকাতায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর বৈঠক নিয়ে বিস্ফোরক TMC
হাইলাইটস
  • বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে।
  • কলকাতায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সিআরপিএফ শীর্ষকর্তাদের এক নজিরবিহীন বৈঠককে ঘিরে শাসক দল তৃণমূল তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ব্যাপক মোতায়েন নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। কলকাতায় সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর সিআরপিএফ শীর্ষকর্তাদের এক নজিরবিহীন বৈঠককে ঘিরে শাসক দল তৃণমূল তীব্র আপত্তি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, এই সমাবেশ সাধারণ নিরাপত্তা পর্যালোচনার বাইরে গিয়ে ‘সামরিক কায়দায় ক্ষমতা দখল’-এর ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এই বৈঠকে সিআরপিএফ, বিএসএফ, সিআইএসএফ, আইটিবিপি এবং এসএসবি-র শীর্ষ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচনমুখী কোনও রাজ্যে এত বড় পরিসরে এমন বৈঠক অতীতে খুব কমই দেখা গিয়েছে বলে দাবি রাজনৈতিক মহলের।

তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্র অভিযোগ করেন, কাশ্মীর, মণিপুরের মতো সংবেদনশীল এলাকা থেকে বাহিনী সরিয়ে এনে বাংলায় মোতায়েন করা হচ্ছে, যা জাতীয় নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও প্রশ্ন তুলছে। একই সুর শোনা গিয়েছে তৃণমূল নেতা সাকেত গোখলের বক্তব্যেও। তাঁদের মতে, এত বিপুল বাহিনী মোতায়েনের উদ্দেশ্য ভোটারদের মধ্যে ভয় তৈরি করা।

পরিসংখ্যান বলছে, এবারের নির্বাচনে বাংলায় প্রায় ২.৪ লক্ষ সিআরপিএফ জওয়ান মোতায়েন করা হয়েছে, যা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি। ২০২১ সালের নির্বাচনে যেখানে ৮৪৫ কোম্পানি বাহিনী ছিল, সেখানে এবার তা প্রায় তিনগুণ। প্রতি ১৪০ জন ভোটারের জন্য একজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর সদস্য থাকছেন, যা নজিরবিহীন।

অন্যদিকে, এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির বক্তব্য, অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সিআইএসএফ জানিয়েছে, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এত বড় বাহিনী মোতায়েনের উদ্দেশ্য কেবল নিরাপত্তা নয়, ভোটারদের উপর মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব তৈরি করাও হতে পারে। তবে নির্বাচন-হিংসার অতীত ইতিহাসের দিকেও আঙুল তুলছে কেন্দ্র, যেখানে গত কয়েক বছরে বাংলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক হিংসার ঘটনা ঘটেছে।

 

POST A COMMENT
Advertisement