বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যরাজ্যসভার পেনশন নেবেন না সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। বৃহস্পতিবার এই মর্মে রাজ্যসভার মহাসচিবকে চিঠি পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছেন তিনি। আর সেই চিঠি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় হয়েছে ভাইরাল।
২০২০ সালে তাঁকে বাংলা থেকে রাজ্যসভায় পাঠানো হয়েছিল। গত ২ এপ্রিল তাঁর মেয়াদ শেষ হয়েছে। এখন তিনি প্রাক্তন সাংসদ। সেই মতো অবসরকালীন ভাতা বা পেনশন তাঁর প্রাপ্য। কিন্তু সেটা নিলেন না বিকাশ।
এই প্রসঙ্গে বলি, বর্তমানে বিধানসভায় বামেদের আসন শূন্য। তাই স্বভাবতই তাঁরা এবার কোনও সাংসদকে বাংলা থেকে পাঠাতে পারেননি। তার বদলে তৃণমূল কংগ্রেস পাঠিয়েছে ৪ জনকে। আর বিজেপির টিকিটে রাজ্যসভায় গিয়েছে একজন।
এদিকে রাজ্যসভার মেয়াদ শেষের পর কিন্তু চুপচাপ বসে থাকছেন না বিকাশ। তিনি এখন আসন্ন বিধানসভা ভোটের জন্য লড়াই করছেন। ২০২৬-এর ভোটে তিনি যাদবপুর থেকে বামেদের প্রার্থী হয়েছেন। সেই মতো প্রচারে কোনও খামতি রাখতে চাইছেন না। রোজই তাঁকে দেখা যাচ্ছে প্রচারে। সকাল-বিকেল-সন্ধে, সময় পেলেই তিনি প্রচারে অংশ নিচ্ছেন এই সাড়ে চুয়াত্তরের 'তরুণ'। তাঁকে সামনে রেখে যাদবপুরের বাম দুর্গ পুনরুদ্ধারের আশা করছে সিপিআইএম। এখন দেখার সেই আশা পূরণ হয় কি না!
এসবের মাঝেই আবার একটা বড় সিদ্ধান্ত নিলেন বিকাশ। তিনি রাজ্যসভার পেনশন নেবেন না বলে ঠিক করেছেন। চিঠি দিয়ে রাজ্যসভার মহাসচিবকে তিনি নিজের ইচ্ছের কথা জানিয়েছেন। সেই চিঠিতে তিনি লেখেন, 'একজন প্রাক্তন সাংসদ হিসেবে যে পেনশন পাওয়া যায়, তা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমি।'
এখন প্রশ্ন হল, কেন তিনি এই পেনশন নেবেন না? যদিও সেই বিষয়ে সরাসরি কিছুই জানাননি তিনি। কিন্তু একাংশের মতে, তাঁরা কোনও অভাব নেই। তাই তিনি নীতিগতভাবেই এই পেনশন নিতে চাইছেন না।
মাথায় রাখতে হবে, বিকাশরঞ্জন শুধু একজন সাধারণ সিপিআইএম কর্মী নন। বরং তিনি দুঁদে আইনজীবী। কলকাতা হাই কোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টে চুটিয়ে প্র্যাকটিস করেন। তাঁর অধীনে রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা। তবে আইনের কাজ করার পাশাপাশি তিনি দলের কাজও করেন মন দিয়ে। তিনি বঙ্গ সিপিআইএম-এর অন্যতম মুখ। সেই বিকাশই এবার রাজ্যসভার পেনশন নেবেন না বলে ঠিক করলেন।