প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ পশ্চিমবঙ্গে ভোট আর হিংসা যেন সমার্থক শব্দ। তবে বৃহস্পতিবারের নির্বাচন তুলনামূলক শান্তিপূর্ণভাবেই সম্পন্ন হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী খোদ অমিত শাহ জানিয়েছেন, এবারের ভোটে রাজনৈতিক হিংসা ব্যাপকভাবে কমে এসেছে। ৩০ জনেরও কম মানুষ জখম হয়েছেন। কোনও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
প্রথম দফায় ভোটগ্রহণের পর সাংবাদিক সম্মেলনে ভাষণ দিতে গিয়ে অমিত শাহ দাবি করেন, প্রথম দফার ভোট থেকেই প্রমাণিত নির্বাচন কমিশনের কারণে আইন-শৃঙ্খলার উন্নতি হয়েছে। নিজের বক্তব্যের সমর্থনে পরিসংখ্যানও তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, '২০১৬ সালের নির্বাচনে ১,২৭৮ জন জখম হয়েছিলেন। ২০২১ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছিব ১,৬৮১। ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ৬৬৪ জন এবং ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে ৭৬১ জন জখম হয়েছিলেন। এর তুলনায়, গতকাল ৩০ জনেরও কম মানুষ জখম হয়েছেন। কেউ মারা যাননি।'
হিংসা থেকে মুক্তি
অতীতে বাংলার ভোট হিংসার সাক্ষী থেকেছে। বুথ দখল, রিগিং, ইভিএম চুরির মতো ঘটনাও সামনে এসেছিল। বিশেষ করে ২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক অশান্তি হয়েছিল। বিশেষ করে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো জেলাগুলিতে ভোট হিংসায় মৃত্যু হয়েছিল অনেকের। তবে এবার সেই তুলনায় হিংসা হয়নি বললেই চলে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এত সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ও নির্বাচনী বিধি কঠোরভাবে মেনে চলার কারণে এবার হিংসা হয়নি।
রাজনৈতিক বার্তা ও দাবি
বৃহস্পতিবারের ভোটকে সামনে রেখে আগামী বুধবারের ভোটেও সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন অমিত শাহ। ভোটে জেতার বিষয়েও আশাবাদী তিনি। বলেন, '৫ তারিখের পর অঙ্গ, বঙ্গ এবং কলিঙ্গ- সবই পদ্মের শাসনাধীন হবে।'
বাস্তবতা বনাম রাজনৈতিক দাবি
যদিও হিংসার ঘটনা কম হয়েছে বলে দাবি করেছেন অমিত শাহ। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভোটের সমস্ত তথ্য সামনে আসার পরই প্রকৃত সত্য সামনে আসবে।