আইপিএস অজয় পাল শর্মা।-ফাইল ছবিIPS Ajay Pal Sharma: দ্বিতীয় দফার ভোটের আগে রাজ্যে নিরাপত্তা জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই প্রেক্ষিতেই উত্তরপ্রদেশ থেকে আনা হয়েছে তথাকথিত ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ আইপিএস অফিসার অজয় পাল শর্মা। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো সংবেদনশীল জেলায় তাঁকে পুলিশ পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে, যা ঘিরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা।
‘সিংহম’ কেন আলোচনায়?
২০১১ ব্যাচের আইপিএস অজয় পাল শর্মা পেশায় একসময় চিকিৎসক ছিলেন। পাটিয়ালার সরকারি মেডিক্যাল কলেজ থেকে ডেন্টাল সার্জারি পাশ করার পর তিনি পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। বর্তমানে উত্তরপ্রদেশে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পদে কর্মরত। কড়া মেজাজ, দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং অপরাধ দমনে কঠোর ভূমিকার জন্যই তাঁর ‘এনকাউন্টার স্পেশালিস্ট’ এবং ‘সিংহম’ তকমা। সূত্রের খবর, তাঁর দায়িত্বে অন্তত ৫০০টি এনকাউন্টার হয়েছে উত্তরপ্রদেশে। যদিও বিষয়টিতে সরকারি কোনও নির্দিষ্ট তথ্য মেলেনি।
বাংলার ভোটে ভাইরাল
ইতিমধ্যেই অজয় পাল শর্মা বাংলার সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল। একাধিক ভিডিও নিয়ে ঝড় উঠেছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রামে। তাঁর দাবাং ইমেজের প্রশংসা করছেন অনেকেই। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে এক্তিয়ার নিয়েও। কেউ বলছেন সিংহম, তো কেউ চুলবুল পাণ্ডে।
ভোটের আগে কড়া বার্তা
ভোটের ঠিক আগে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় গিয়ে তিনি স্থানীয় তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের প্রেক্ষিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। ভোটারদের ভয় দেখানো বা প্রভাবিত করার অভিযোগে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, কেউ আইন ভাঙার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
কেন শাসকদলের অস্বস্তি?
তৃণমূলের অভিযোগ, এই অফিসার সাধারণ মানুষকে অযথা ভয় দেখাচ্ছেন এবং রাতের অন্ধকারে তল্লাশির নামে হয়রানি করছেন। এমনকি মহিলাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও তোলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তৃণমূলের দাবি, তাঁর অতীত নিয়েও একাধিক বিতর্ক রয়েছে, যার মধ্যে দুর্নীতি ও ব্যক্তিগত আচরণ সংক্রান্ত অভিযোগও রয়েছে।
কমিশনের কৌশল কী?
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের মতে, দক্ষিণ ২৪ পরগনার মতো এলাকায় বারবার অশান্তি ও ছাপ্পা ভোটের অভিযোগ ওঠায় এবার কমিশন কড়া বার্তা দিতে চায়। সেই কারণেই এমন একজন কঠোর ভাবমূর্তির অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে ভোটের দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
সব মিলিয়ে, অজয় পাল শর্মার উপস্থিতি যেমন একদিকে নিরাপত্তা জোরদারের বার্তা দিচ্ছে, তেমনই অন্যদিকে তা রাজনৈতিক বিতর্ককেও উসকে দিয়েছে। ভোটের দিন এই কৌশল কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।