২৭ তারিখ পর্যন্ত রাজ্যে শাহ, চলবে লাগাতার প্রচারপশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে জেতার জন্য বিজেপি জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সহ দলের আরও বেশ কয়েকজন সর্বভারতীয় নেতা রাজ্যজুড়ে একের পর এক জনসভা করছেন। এদিকে, মঙ্গলবার রাতে কলকাতায় অমিত শাহ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্বের দায়িত্বে থাকা দলীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
রিপোর্ট অনুযায়ী, এই বৈঠকটি চার ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলে। বাংলার পাঁচটি বিভাগের জন্য নির্ধারিত বৈঠক কর্মসূচিতে এটি ছিল অমিত শাহের শেষ বৈঠক। এই বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রাউন্ড পর্যায়ের প্রস্তুতি পর্যালোচনা করেন, ত্রুটি-বিচ্যুতি মূল্যায়ন করেন এবং ভবিষ্যৎ প্রস্তুতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ২৭ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে থাকবেন। এর অর্থ হলো, দুই দফার ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শাহ বাংলা ছাড়বেন না।
#WATCH | West Bengal: Union Home Minister Amit Shah's meeting with the in-charges and the Pravasi Karyakartas for the second phase of the elections to the West Bengal assembly has been underway in Kolkata for the last 4 hours. HM Amit Shah will stay in Kolkata till April 27.… pic.twitter.com/zh0wqRYRGl
— ANI (@ANI) April 21, 2026
শাহ প্রস্তুতি ও ত্রুটিগুলো পর্যালোচনা করেন
বাংলায় ভোটগ্রহণ দুই দফায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম দফা অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল)। প্রথম দফার জন্য দল তার পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করেছে। অমিত শাহ সমগ্র বাংলাকে সংগঠিত করার জন্য নিরন্তর কাজ করে চলেছেন। শাহ দলের প্রস্তুতি এবং ঘাটতিগুলো পর্যালোচনা করছেন। তিনি নেতা ও কর্মীদের সঙ্গে ক্রমাগত সমাবেশ ও সভা করে দলের প্রস্তুতি এবং ঘাটতিগুলো খতিয়ে দেখছেন।
জনসভায় টিএমসি-র তীব্র সমালোচনা
মঙ্গলবার একাধিক জনসভা করেন অমিত শাহ। জনসভা চলাকালীন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্রভাবে আক্রমণ করেন। তিনি দুর্নীতি, আইন-শৃঙ্খলা এবং অনুপ্রবেশের মতো বিষয় নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের সমালোচনা করেন। তিনিআত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন যে এবার বাংলায় বিজেপিই সরকার গঠন করবে।
'অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে বাংলাকে মুক্ত করব'
কুলটিতে একটি নির্বাচনী জনসভায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেন, বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলা অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে মুক্ত হবে। তিনি বলেন, বাংলায় বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইন (ইউসিসি) চালু করা হবে এবং এর মাধ্যমে বাংলায় চার বিয়েও নিষিদ্ধ করা হবে। তিনি বলেন, টিএমসি সরকার মাফিয়াদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। নতুন সরকার রাজ্যে বিস্তার লাভ করা সিন্ডিকেট, মাফিয়া এবং গুণ্ডামির অবসান ঘটাবে। তিনি আরও বলেন, বড় বড় মাফিয়াদের মুখোশ উন্মোচন করে জেলে পাঠানো হবে।
প্রতি বছর এক লক্ষ কর্মসংস্থান প্রদানের প্রতিশ্রুতি
বাংলার মানুষের সামনে এক সুবর্ণ সুযোগ। এবার বিজেপি ক্ষমতায় এলে মেধার ভিত্তিতে প্রতি বছর এক লক্ষ যুবককে চাকরি দেওয়া হবে। তিনি বলেন, বিজেপি দেশের লৌহ আকরিক উৎপাদন কেন্দ্রের শিল্প পরিচয় পুনরুদ্ধার করবে এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। তিনি বলেন, কুলটি একসময় দেশের লৌহ আকরিক উৎপাদনের কেন্দ্র ছিল, কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার এটিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। শাহ বলেন, আমরা এই লৌহ নগরীকে তার আগের গৌরবে ফিরিয়ে আনব, অবৈধ খনন বন্ধ করব, এই এলাকায় দূষণকারী স্পঞ্জ আয়রন উৎপাদন কার্যকরভাবে বন্ধ করব এবং স্থানীয় যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করব।
আজকেও শাহের সভা
আজ পশ্চিমবঙ্গে ভোটপ্রচার করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। আজ তাঁর জোড়া জনসভা রয়েছে। প্রথম সভা হুগলির সপ্তগ্রামে। সেখান থেকে তিনি চলে যাবেন উত্তর ২৪ পরগনায়। হাবড়ায় জনসভা করবেন শাহ। প্রসঙ্গত, ভবানীপুরে শুভেন্দু অধিকারীর মনোনয়নকে ঘিরে আয়োজিত কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে শাহ ঘোষণা করেছিলেন, ভোটের প্রচারে নিজে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে তিনি টানা ১৫ দিন বাংলায় থাকবেন। দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, 'এই নির্বাচনে বাংলায় পরিবর্তন আসবেই। শুভেন্দুর জয় সেই পরিবর্তনের সূচনা করবে, আর দিদির পরাজয় নিশ্চিত।'
দুই ধাপে ভোটগ্রহণ
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম পর্বের ভোটগ্রহণ আগামী ২৩ এপ্রিল ১৬টি জেলার ১৫২টি আসনে অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গের আটটি, দক্ষিণবঙ্গের তিনটি এবং জঙ্গলমহল অঞ্চলের পাঁচটি জেলা রয়েছে। সকাল ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে। দ্বিতীয় পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ২৯ এপ্রিল। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে ৪ মে।