মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হারফের হারের মুখ দেখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার 'ঘরের মেয়েকে' ভোট দিল না ভবানীপুর। বরং কাছে টেনে নিলেন মেদিনীপুরের ছেলে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীকে। আর সবথেকে বড় বিষয় হল, এই শুভেন্দুর কাছেই ২০২১ সালে হেরেছিলেন মমতা। সেই বার অবশ্য যুদ্ধক্ষেত্র ছিল নন্দীগ্রাম। ২০২১-এ ১৯৫৬ ভোটে জয় পেয়েছিলেন শুভেন্দু। আর আজ আবার বিজয়ী হলেন তিনি।
ভবানীপুরে ২০ রাউন্ডের শেষে ১৫১১৩ ভোটে জিতে গেলেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি পেয়েছেন, ৭৩৪৬৩ ভোট। আর মমতা পেয়েছেন ৫৮৩৫০ ভোট। আজ আবার ঘরের মাঠেই হারলেন মমতা। বাজিমাত করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
আর এই হারের পরই এটা নিশ্চিত হয়ে গেল যে এবারের বিধানসভাতে যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বিরোধী নেতাও হতে পারছে না। বরং বাজি মেরে গেলেন শুভেন্দু। জায়েন্ট কিলার হিসেবে উঠে এলেন তিনি। ভবানীপুরে ঢুকে মমতাকে হারালেন।
এই নিয়ে কতবার হারলেন মমতা?
এই নিয়ে মোট ৩ বার হারলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮৯ সালে যাদবপুর কেন্দ্রে মালিনী ভট্টাচার্যের কাছে হেরে গিয়েছিলেন। সেটা ছিল সংসদীয় রাজনীতিতে মমতার প্রথম হার। তারপর তিনি ২০২১ সালে আবার হারের মুখ দেখেন। সেই বার তাঁকে হারিয়ে দেন শুভেন্দু অধিকারী। আর ফের একবার তাঁকে হারতে হল। এবারও সেই শুভেন্দুর কাছেই হারলেন তিনি। প্রায় ১৫ হাজার ভোটে হেরে গেলেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে এটা তাঁর দ্বিতীয় হার।
দুপুর থেকেই অভিযোগ করছিলেন
'আমাকে লাথি মেরেছে।' 'ভোট লুঠ হয়েছে।' 'উই উইল বাউন্স ব্যাক (আমরা ফিরে আসব)।' সন্ধ্যায় ভোটগণনা কেন্দ্রের বাইরে এমনটাই বললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এ দিন সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন মমতা। তাঁর চোখেমুখে তখন রাগ এবং ক্ষোভের অভিব্যক্তি স্পষ্ট। আর এমন সময়ই তিনি দাবি করলেন, তাঁকে মারা হয়েছে। এমনকী ভোট লুট হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর দল আবার ফিরে আসবে বলেও ঘোষণা করে দিলেন।
তিনি বলেন, '১০০টা আসন লুঠ করেছে। এটা অনৈতিক জয়। আমাকে মেরেছে সিআরপিএফ-এর সামনে। আমি টাইম টু টাইম মনোজ আগরওয়ালকে মেসেজ করেছি। কোনও উত্তর আসেনি। কারণ, ওরা ইলেকশন কমিশন নয়, বিজেপি কমিশন। উই উইল বাউন্স ব্যাক।' আর বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে বিজেপির তরফ থেকে হারের পর বাহানা বলে কটাক্ষ ছুড়ে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, 'আমাকে লাথি মেরেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বন্ধ করে দিয়েছে। ডিইও আমাদের বলেছিলেন ঢুকতে দেবেন। তারপর থেকে উনি আনঅ্যাভেলেবল হয়ে যান। আমি ৫ মিনিটের জন্য গিয়েছিলাম। আমাকে মেরে বের করে দিয়েছে।'