'বিজেপি আমায় নেবে কি না জানি না, রাজনীতি ছেড়ে দেব', bangla.aajtak.in-কে বললেন 'কালারফুল' বায়রন

TMC MLA Bayron Biswas: 'একবার কংগ্রেস ছেড়ে গদ্দার তকমা পেয়েছি, আর কোনও তকমা নিতে চাই না। তাছাড়া বিজেপি আমায় নেবে কী নেবে না, জানিনা। নিলেও আমার মানসম্মান থাকবে না। তাই ঠিক করেছি আর রাজনীতিতে থাকব না। আমরা ব্যবসায়ী, রাজনীতি আমাদের জন্য না।'

Advertisement
'বিজেপি আমায় নেবে কি না জানি না, রাজনীতি ছেড়ে দেব', bangla.aajtak.in-কে বললেন 'কালারফুল' বায়রনফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • একসময় ‘আমি জাকিরদা হারছি’ মন্তব্য করে আলোড়ন ফেলেছিলেন বাইরন।
  • একসময় ‘আমি জাকিরদা হারছি’ মন্তব্য করে আলোড়ন ফেলেছিলেন বাইরন।

স্রোতের বিপরীতে সাঁতার কেটে ফের জয়ের মুখ দেখেছেন তিনি। সেই সাগরদিঘি আসনে এ বার তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জয়ী হয়েছেন বাইরন বিশ্বাস। যখন রাজ্যের অধিকাংশ আসনে তৃণমূলের বিরুদ্ধে হাওয়া বয়েছে, তখন মুর্শিদাবাদের এই কেন্দ্রে ৩৪,২৬০ ভোটে বিজেপি প্রার্থী তাপসকুমার চক্রবর্তীকে হারিয়ে নজর কেড়েছেন তিনি।

একসময় ‘আমি জাকিরদা হারছি’ মন্তব্য করে আলোড়ন ফেলেছিলেন বাইরন। সেই সময় পরিবারকে নিয়ে দেশ ছেড়ে চলে যাওয়াও কম বিতর্ক তৈরি করেনি। তবে কয়েকদিনের বিরতির পর ফিরে এসে নির্বাচনে জয় তুলে নিয়ে আবারও চর্চার কেন্দ্রে তিনি। তাঁর অনুগামীদের দাবি, সময়-অসময়ে মানুষের পাশে থাকার ফলই তিনি পেয়েছেন।

bangla.aajtak.in-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বাইরন বলেন, 'আমি আর কোনও কাজ করতে পারব বলে মনে হয় না। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে খরচ করব। বিজেপি যদি হেল্প করে তাহলে কাজ করতে পারব।'

তিনি বিজেপিতে যোগ দেবেন কি না, সে প্রসঙ্গে বাইরনের স্পষ্ট জবাব, 'একবার কংগ্রেস ছেড়ে গদ্দার তকমা পেয়েছি, আর কোনও তকমা নিতে চাই না। তাছাড়া বিজেপি আমায় নেবে কী নেবে না, জানিনা। নিলেও আমার মানসম্মান থাকবে না। তাই ঠিক করেছি আর রাজনীতিতে থাকব না। আমরা ব্যবসায়ী, রাজনীতি আমাদের জন্য না।'

তবে বিজেপিকে নিয়ে আশাবাদী সুরও শোনা গিয়েছে তাঁর কথায়। তিনি বলেন, 'আমি বিজেপিকে নিয়ে আশাবাদী। বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের বার্তা আমার ভালো লেগেছে। আমার সঙ্গে অধীর চৌধুরী, মহম্মদ সেলিম, শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ভালো সম্পর্ক। আমি চাই যে ভালো কাজ করবে, মানুষ তাঁকে ভোট দিক।'

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সাগরদিঘি উপনির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটে লড়ে তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২২,৯৮০ ভোটে হারিয়েছিলেন বাইরন। সেই জয় ছিল যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০১১ সালের পর থেকে এই কেন্দ্র তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি হিসেবেই পরিচিত ছিল। ২০২১ সালের নির্বাচনেও তৃণমূলের সুব্রত সাহা ৫০ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে বাইরনের জয়ের মাধ্যমে কংগ্রেসের খাতা খোলে। যদিও কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তৃণমূলে যোগ দেন।

Advertisement

বাইরনের রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল আরও আগে। ২০১৫ সালে তিনি কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে। যদিও তাঁর বাবা বাবর আলি বিশ্বাস এখনও কংগ্রেসেই রয়েছেন। স্থানীয়দের একাংশের মতে, সক্রিয় রাজনীতির বাইরে থেকেও সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখেছিলেন বাইরন।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য ঘুরছে। কেউ তাঁকে ‘কালারফুল নেতা’ বলছেন, কেউ আবার ‘রাজনীতির শাহরুখ খান’ আখ্যা দিচ্ছেন। এই প্রসঙ্গে হাসতে হাসতে বাইরন বলেন, 'আমি শাহরুখ খান, না শক্তি কাপুর জানি না। আমি আর গদ্দার হতে চাই না। মানুষ শান্তিতে থাকুন, এটাই চাই।'

POST A COMMENT
Advertisement