‘মমতা ও ভাইপোকে জেলে দেখতে চাই', পানিহাটি জিতেই প্রতিক্রিয়া রত্না দেবনাথেরগেরুয়া ঝড় উঠেছে বাংলায়। যার ফলে দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটল রাজ্যে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে প্রথমবারের মতো সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। আর এই শিবিরের অন্যতম আলোচিত প্রার্থী ছিলেন আরজি করের নির্যাতিতার মা রত্না দেবনাথ। পানিহাটি কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন তিনি। সদ্য নির্বাচিত এই বিধায়কের লক্ষ্যও স্থির। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মনোনীত তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করে বিধানসভার টিকিট পেয়েছেন রত্না দেবনাথ। ভোট গণনা শেষ হতেই আরজি করের নির্যাতিতার মা বলেন, ‘এই জয় পানিহাটির সমগ্র মানুষ, আমার সহকর্মী এবং দলীয় কর্মীদের, যাঁরা আমাকে অবিরাম সমর্থন করেছেন। আমি আগেই বলেছিলাম যে আমি পানিহাটিকে ঘোষ পরিবার থেকে মুক্ত করতে চাই, এবং আমি তা করেছি। আমি তৃণমূল কংগ্রেসকে নর্দমায় উপড়ে ফেলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, গঙ্গায় নয়, কারণ তাতে নদী দূষিত হবে। আমি ৩০,০০০ ভোটের ব্যবধানে এই নির্বাচনী লড়াইয়ে জয়ী হয়েছি। আমি এই জয় প্রধানমন্ত্রী মোদীকে উৎসর্গ করব। আমার মেয়ে মা দুর্গাকে খুব ভালোবাসত। সে বাংলায় পদ্ম ফুটিয়েছেন। অনেকে আমাকে তিরস্কার করছিলেন কিন্তু বাংলার মানুষ যোগ্য জবাব দিয়েছেন।'
রত্না দেবনাথের পরাজয় প্রসঙ্গে মমতা বলেন, ‘ আমি তাঁকে এবং তাঁর ভাইপোকে (অভিষেক ব্ন্দ্যোপাধ্যায়) জেলে দেখতে চাই। মমতা মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং পুলিশমন্ত্রী।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মনে হয়, আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রথম ধাপটি পার করেছি। আমাদের সমাজে নারীরা নিরাপদ নন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই নির্দেশ দিয়েছিলেন যে রাত ৮টার পর মহিলাদের বাইরে যাওয়া উচিত নয়। আমরা সেই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়েছি।’
সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রত্না দেবনাথ প্রথমেই নিজের জয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উৎসর্গ করেন। 'বাংলায় অনেক অভিযোগ, চাকরি নেই, স্কুলগুলিতে তালা পড়ে গেছে, বলেছিলাম তৃণমূলের মূল উপড়ে ফেলব, আমি হয়তো সেটা পেরেছি।' বিজেপির জয়ী প্রার্থী আরও বলেন, 'পানিহাটি থেকে ঘোষ পরিবারের থ্রেট কালচার থেকে মুক্ত করব, এই ভয়ের দুর্নীতি থেকে পানিহাটি থেকে মুক্ত করতে পারব।' বিধানসভায় গিয়ে প্রথম কোন কাজ করবেন? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি স্পষ্ট বলেন, 'আমার মেয়ে যে দুর্নীতির জন্য খুন হয়েছে, সেই স্বাস্থ্য দফতরের দুর্নীতি কতটা গভীরে সেটা খুঁজে বের করব।' প্রসঙ্গত, স্বাস্থ্য দফতরের মন্ত্রী ছিলেন খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মত, সেক্ষেত্রে রত্না দেবনাথ সোজাসুজি তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিলেন।