মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়'আমি বেরিয়েছি অনেকক্ষণ। রানওয়েতে আমাকে আধ ঘণ্টা আটকে রাখল। ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে সব প্লেন নামাল। কালকে হেমন্ত সোরেনের প্লেনও ৪০ মিনিট আটকে রেখে দিয়েছিল। এরা আমাদের সঙ্গে এরকমই ব্যবহার করছে।' খড়দহ বিধানসভার সূর্যসেন নগর খেলার মাঠের জনসভায় এমনটাই অভিযোগ করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর মতে, বিজেপির লোকজন এয়ারপোর্ট কন্ট্রোল করেছে। সেই সব লোকেরা চান না তিনি ঠিক সময়ে সভায় পৌঁছন। তাই এয়ারপোর্টে অহেতুক দেরি করান হচ্ছে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, 'এয়ারপোর্টে আপনি গেলেন তো বিজেপির লোকগুলো ওখানে বসে রয়েছে। লোকের অ্যাক্সিডেন্ট হলে দেখে না। আর যত আমাদের দেরি করতে পারে, ততই করে যায়।'
এই সভা থেকে তৃণমূলকে মিটিং করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে দিচ্ছে না বলেও তোপ দাগেন মমতা। তিনি দাবি করেন, মাঠে সভা করার অনুমতি দিতে চাইছে না। বিজেপির লোকজন দায়িত্বে রয়েছে। তারা পারমিশন দিচ্ছে না।
মোদীর ঝালমুড়ি খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ
রবিবার ঝাড়গ্রামে ঝালমুড়ি খেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আর সেই ঘটনাকেও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি মমতা। তাঁর দাবি, মোদী ১০ টাকার লোক নন। পকেটে ১০ পুরে এনেছেন প্ল্যান করে। প্রধানমন্ত্রীর নিরপত্তাবাহিনীই ঝালমুড়ি তৈরি দিয়েছে। সবটাই প্ল্যান করা।
এর পাশাপাশি মোদীকে মাছ, মাংস ইস্যুতেও কটাক্ষ করলেন মমতা। তিনি দাবি করেন, বিজেপি রাজ্যে মাছ, মাংস, ডিম খাওয়া বন্ধ। বাঙালিদের উপর আক্রমণ করছে।
এই প্রসঙ্গে নিজের উদাহরণ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান নিরামিষ খেতে ভালোবাসেন। সব উৎসব মানেন। ইদ, ছটপুজো, বড়দিনে যান। তাঁর কাছে সব ধর্মই সমান।
সারা দেশটা জোর করে জিতেছে
মমতার মতে, সারা দেশটা জোর করে জিতেছে বিজেপি। ইভিএম ম্যানুপুলেশন করেছে। বিহারেও বাইরে থেকে লোক এনে জিতেছে মোদী।
এ দিন বিজেপিকে ভারত থেকে হারানোর চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন মমতা। তাঁর কথায়, 'বাংলাকে টার্গেট করেছ। আমরা দিল্লিকে টার্গেট করেছি। লোকসভায় হেরেছ। ২০২৬ সালেই তোমাদের পতন হবে। ভোটবাক্সে গণতন্ত্রের বাক্সের মাধ্যমে উত্তর দেওয়া হবে।'
এছাড়া তাঁর দাবি, বাঙালি দেখলেই বাংলাদেশি বলা হচ্ছে। পাঞ্জাবি দেখলেই খালিস্তানি বলে দাগিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকী মতুয়া, উদ্বাস্তুদের নাম কেটে দিয়েছে। তবে তিনি থাকতে বাংলায় কোনও এনআরসি ক্যাম্প করতে দেওয়া হবে না বলে আবার জানিয়ে দিলেন মমতা।