BJP Bengal Election Strategy 2026: শুধু সভা, মিছিল নয়, এই সিক্রেট স্ট্র্যাটেজিতেই বঙ্গ দখল বিজেপির

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। বিজেপির এই দুর্দান্ত রেজাল্টের পিছনে ঠিক কী কী কাজ করেছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু বড় সভা বা তারকা প্রচার নয়। এর মূল ফ্যাক্টরই হল লং টার্ম মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট।

Advertisement
শুধু সভা, মিছিল নয়, এই সিক্রেট স্ট্র্যাটেজিতেই বঙ্গ দখল BJP রমাসের পর মাস একটু একটু করে এলাকা বাড়িয়েছে বিজেপি। আর সেই প্রচার কৌশলই শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে।
হাইলাইটস
  • পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। 
  • বিজেপির এই দুর্দান্ত রেজাল্টের পিছনে ঠিক কী কী কাজ করেছে?
  • বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ; একাধিক পরিকল্পিত কৌশলের জোরেই বাংলায় ধীরে ধীরে জমি শক্ত করেছে বিজেপি।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে গেরুয়া ঝড়। বিজেপির এই দুর্দান্ত রেজাল্টের পিছনে ঠিক কী কী কাজ করেছে? বিশ্লেষকরা বলছেন, শুধু বড় সভা বা তারকা প্রচার নয়। এর মূল ফ্যাক্টরই হল লং টার্ম মাইক্রো ম্যানেজমেন্ট। 'পদ্ম মেলা' থেকে ফুটবল ম্যাচ, বুথ বুথে ওপেন মিটিং, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার, বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগ; একাধিক পরিকল্পিত কৌশলের জোরেই বাংলায় ধীরে ধীরে জমি শক্ত করেছে বিজেপি। রাজনৈতিক মহলের মতে, দ্রুত রেজাল্ট নয়। মাসের পর মাস একটু একটু করে এলাকা বাড়িয়েছে বিজেপি। আর সেই প্রচার কৌশলই শেষ পর্যন্ত কাজে দিয়েছে।

সূত্রের খবর, এই গোটা নির্বাচনী পরিকল্পনার নেপথ্যে ছিলেন বিজেপির সংগঠক সুনীল বনসল, কেন্দ্রীয় নেতা ভূপেন্দ্র যাদব এবং সহ-পর্যবেক্ষক বিপ্লব কুমার দেব। তাঁদের নেতৃত্বেই বাংলার প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায় বিজেপির সাংগঠনিক নেটওয়ার্ক।

সবচেয়ে বেশি আলোচনায় 'কমল মেলা'। বিজেপির দাবি, শুধুমাত্র রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবের মতো করে মানুষের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি বিধানসভা এলাকায় এই মেলার আয়োজন করা হয়। সেখানে স্থানীয় সংস্কৃতি, গান, আলোচনা এবং রাজনৈতিক বার্তাকে একসঙ্গে মিশিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রচলিত জনসভার তুলনায় এই ধরনের কর্মসূচি গ্রামবাংলার মানুষকে আকৃষ্ট করেছে। 

বাংলার আবেগ ফুটবলকেও হাতিয়ার করেছে বিজেপি। রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। লক্ষ্য ছিল যুবসমাজকে সরাসরি সংযুক্ত করা। রাজনৈতিক কর্মসূচির বদলে খেলাধুলার মাধ্যমে জন সংযোগ করায় অনেক জায়গাতেই ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। মাঠে ফুটবল ম্যাচ চললেও, তার ফাঁকেই চলেছে রাজনৈতিক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ।

তবে বিজেপির প্রচারের সবচেয়ে বড় অস্ত্র ছিল 'আঙিনা বৈঠক'। গত ফেব্রুয়ারিতে পরীক্ষার কারণে মাইকিং কমিয়ে ছোট ছোট লোকাল লেভেলে বৈঠকের উপর জোর দেওয়া হয়। বিজেপির দাবি, মাত্র এক মাসে ১ লক্ষ ৬৫ হাজারেরও বেশি বৈঠক হয়েছে। বুথভিত্তিক এই বৈঠকগুলিতে স্থানীয় ভোটারদের নিয়ে ছোট ছোট গ্রুপ তৈরি করা হয়। তাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে অ্যাকটিভ রাখা হয়।  

Advertisement

জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত প্রায় ১২ হাজার পথসভা এবং ছোট ছোট জনসংযোগ কর্মসূচি করা হয়। স্থানীয় ইস্যুকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন বিজেপি নেতারা। এর পাশাপাশি ‘চার্জশিট অভিযান’-এর মাধ্যমে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, আইনশৃঙ্খলা এবং কর্মসংস্থান নিয়ে সরব হয় বিজেপি। প্রায় ২২০টি বিধানসভা এলাকায় এই কর্মসূচি চালানো হয় বলে দাবি।

প্রার্থী বাছাইয়েও এ বার আলাদা কৌশল নিয়েছিল বিজেপি। শুধু পেশাদার রাজনীতিবিদ নয়, ডাক্তার, আইনজীবী, খেলোয়াড়, শিল্পী এবং স্থানীয় পরিচিত মুখদের টিকিট দেওয়া হয়। ফলে ‘বহিরাগত বনাম বাঙালি’ বিতর্ক অনেকটাই কমে যায় বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মহিলা ও যুব ভোটারদের টানতেও আলাদা প্রচার চালানো হয়। ‘যুবশক্তি ভরসা কার্ড’ এবং ‘মাতৃশক্তি ভরসা কার্ড’-এর মতো কর্মসূচির মাধ্যমে সরাসরি জনসংযোগ করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলার নির্বাচনে বিজেপির এই কৌশল শুধুমাত্র প্রচার নয়, বরং বুথভিত্তিক সংগঠন তৈরির বড় উদাহরণ।  

POST A COMMENT
Advertisement