বিজেপির বাংলা জয়বাংলায় রং গেরুয়া। বিপুল সংখ্যা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ ভোটে জিতে এসেছে বিজেপি। আর এই জয়ের নেপথ্যে রাজস্থানের নেতারা নীরব গেমচেঞ্জারের কাজ করেছেন বলে মনে করছেন অনেকেই।
বিজেপির অন্দরের খবর, পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির রেকর্ড জয় পেয়েছে। আর এই জয়ের নেপথ্যে যেমন জাতীয় নেতৃত্বের হাত রয়েছে, ঠিক তেমনই রাজস্থান বিজেপির নেতাদের সক্রিয় অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কথা মতোই রাজ্যে কাজ করেছেন রাজস্থানের নেতারা। তাঁরা মাটিতে নেমে কাজ করেছেন। খাতায় কলমের প্ল্যান সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছেন। তার ফলেই একাধিক এলাকায় জয় নিশ্চিত হয়েছে বলে দাবি করছে বিজেপিরই একাংশ।
দলের একটা বড় অংশের মত, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্ব এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নির্বাচনী পরিকল্পনা ছিল ঠিকই। তবে রাজস্থানের বিজেপি নেতাদের সক্রিয়তাও পশ্চিমবঙ্গে দলের এই নজিরবিহীন জয় এনে দিয়েছে।
মাথায় রাখতে হবে, এই রাজ্যে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবকে নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসলকে রাজ্য 'প্রভারি' করা হয়। এই দুই নেতা গোটা প্রচার অভিযানকে সংগঠিত ও কৌশলগতভাবে পরিচালনা করেন। আর এই দুই নেতা যে নিজের কাজে একবারে ১০০ তে ১০০ নম্বর পেয়ে পাশ করেছেন, সেই কথা তো বলাই বাহুল্য।
ও দিকে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কেন্দ্র ভবানীপুরে পড়ে ছিলেন রাজেন্দ্র রাঠোর এবং তাঁর দল। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং সেখাওয়াত এবং প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কৈলাশ চৌধুরী উত্তরবঙ্গে সক্রিয় প্রচার চালিয়ে বিজেপির অবস্থান মজবুত করেছেন।
রাজ্য অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান অরুণ চতুর্বেদী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ২১টি নির্বাচনী সভা ও রোড শোর দায়িত্বে ছিলেন। প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি অশোক পরনামি এই সভাগুলির মধ্যে তিনটির দায়িত্ব নেন।
ওই রাজ্যের প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সিপি জোশি এবং তাঁর দল সুনীল কাতরা, নীরজ জৈন ও রাকেশ পাঠক, বিজেপির জাতীয় সভাপতি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সভার সমন্বয় করেন। যার ফলে প্রচারে গতি আসে।
উত্তরবঙ্গের শিলিগুড়ি, দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহার জেলার ২৮টি বিধানসভা আসনের মধ্যে বিজেপি ২৭টিতে জয় পেয়ে ঐতিহাসিক সাফল্য পায়। এই অঞ্চলে কৈলাশ চৌধুরি ছয় মাস ধরে কাজ করেন। আর গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত টানা দশ দিন সভা করেন।
আসানসোল জেলায় বিজেপি বিধায়ক জিতেন্দ্র গোথওয়ালকে নির্বাচনী প্রভারি করা হয়েছিল। তাঁর নেতৃত্বে বিজেপি সেই জেলার ৭টি আসনে জয়লাভ করে। এই জেলায় আগের নির্বাচনে মাত্র ২টি আসন পেয়েছিল তারা।
উত্তর কলকাতা এবং দক্ষিণ কলকাতার মতো তৃণমূল কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটিতেও রাজস্থানের নেতারা কার্যকর কৌশল নেন। উত্তর কলকাতার ৭টির মধ্যে ৪টি আসনে প্রথমবার জয় পায় বিজেপি। এখানে অতুল ভানসালি, শংকর সিং রাজপুরোহিত এবং ড: শীলা বিষ্ণোই দীর্ঘদিন প্রচার চালান।
দক্ষিণ কলকাতায় বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মোতিলাল মীনা নির্বাচনী প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে দল প্রায় ছয়টি আসনে প্রথমবার জয় পায়।
এছাড়াও দমদম, যাদবপুর এবং কলকাতার অন্যান্য এলাকায় রাজস্থানের বহু নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। আর সেই সব জেলাতেও তাঁরা দারুণ কাজ করেন।
ভবানীপুর কেন্দ্রেও বিজেপি আক্রমণাত্মক কৌশল নেয়। এখানে রাজেন্দ্র রাঠৌরের নেতৃত্বে বিভিন্ন ওয়ার্ডে রাজস্থানের নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়, যারা বিজেপি প্রার্থীকে এগিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখেন।