ফাইল ছবিআসন্ন বিধানসভা ভোটকে ঘিরে নজিরবিহীন কড়াকড়ি করছে নির্বাচন কমিশন। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার ভোটের আগে রাজ্যের ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের অধীনে থাকা ৪৪,৩৭৮টি বুথে ইতিমধ্যেই সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। ভোটের দিন যাতে ভিডিও রেকর্ডিং নির্বিঘ্নে হয়, তা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, ক্যামেরাগুলির ট্রায়াল রানও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই শেষ করা হবে। শুধু ক্যামেরা বসানোই নয়, সেগুলি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে সেক্টর অফিসার ও বুথ-স্তরের আধিকারিকদের বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুথের ভেতরে ও বাইরে কোথায় ক্যামেরা বসানো হবে, সেই স্থান চিহ্নিত করার কাজও তাঁদের হাতেই তুলে দেওয়া হয়েছে।
ক্যামেরা বসানোর ক্ষেত্রে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। বুথের ভেতরে এমনভাবে ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে, যাতে সর্বাধিক এলাকা নজরে আসে, কিন্তু ভোটদানের গোপনীয়তা কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয়। তাই ‘ভোটিং কম্পার্টমেন্ট’-এর অবস্থান আগে থেকেই নির্দিষ্ট করে চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে এবং ইভিএম যেন ক্যামেরার সরাসরি নজরে না থাকে, তা নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বুথের বাইরে এমনভাবে ক্যামেরা বসাতে হবে, যাতে ভোটারদের সারি স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। পাশাপাশি, ইন্টারনেট সংযোগ শক্তিশালী এমন জায়গা বেছে নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে, যাতে লাইভ স্ট্রিমিংয়ে কোনও সমস্যা না হয়। ক্যামেরা এমন উচ্চতায় বসাতে হবে, যাতে সহজে তা নষ্ট বা বিকৃত করা না যায়।
এই পদক্ষেপের পেছনে রয়েছে অতীতের অভিজ্ঞতা। ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটে বহু ক্যামেরা অকেজো হয়ে পড়া বা ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছিল। সেই পুনরাবৃত্তি এড়াতেই এবার সরাসরি প্রশাসনিক আধিকারিকদের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, ভোটের দিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্যও যদি ক্যামেরা বন্ধ থাকে, তাহলে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিতেও তারা পিছপা হবে না।
এদিকে, নতুন ভোটার সংযোজনেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়েছে। ‘ফর্ম ৬’-এর মাধ্যমে আবেদন করা প্রায় ৭.০৯ লক্ষ নতুন ভোটার এবার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন। ফলে রাজ্যে মোট ভোটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬.৮২ কোটিতে, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার প্রায় ৩.৪৯ কোটি এবং মহিলা ভোটার প্রায় ৩.৩৩ কোটি।