নাম না করে শুভেন্দুকে নিশানাহলদিয়া বিধানসভার প্রার্থী তাপসী মণ্ডলের সমর্থনে মঙ্গলবার সুতাহাটার সভা করেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেখান থেকেই একাধিকবার শুভেন্দু অধিকারী ও অধিকারী পরিবারকে সরাসরি নাম না নিয়েও নিশানা করেন মমতা। এদিনও নন্দীগ্রামে লোডশেডিং প্রসঙ্গ তোলেন মমতা। সভার শুরুতেই বলেন, 'তৃণমূলের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিচ্ছো। তোমাদের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে আমি চার্জশিট দিচ্ছি। কত টাকা হলদিয়া থেকে যায়, এটার একটা তদন্ত হোক। তৃণমূলের লোকেরা শুধু গ্রেফতার হবে? আগের বারও নন্দীগ্রামে এ ভাবে লুট করেছ! রাতের বেলায় জেতার পরেও লোডশেডিং করে ইভিএম মেশিন লুট করেছ। কাউন্টিং লুট করেছ। যাদের বসিয়েছিলে, তাদের আমি চিনি। কেউ যদি আপনাদের সঙ্গে দুষ্টুমি করে, তাদের নাম-ঠিকানা, ফোন নম্বর আর ছবি তুলে রাখবেন।'
নাম না করে শুভেন্দুকে নিশানা
নাম না করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর উদ্দেশে মমতা বলেন, ‘আপনাদের এ বারে নিজেদের অস্তিত্ব বাঁচানোর জন্য লড়তে হবে, যদি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা কোনও গদ্দারের হাতে বিক্রি করতে না চান, তা হলে সব আসনে, সব চক্রান্ত ব্যর্থ করে জোড়াফুলকে ভোট দিন।’ মমতা আরও বলেন, ‘এই জেলায় গদ্দার লিস্ট করে দিয়েছে, কাকে কাকে অ্যারেস্ট করতে হবে। ভোটের পরে তুমি নিজেকে সামলাও। অনেক কেলেঙ্কারি আছে। হলদিয়া থেকে কত ট্রাক যায়? সেই ট্রাকের কাটমানি কে খায়? যত কোম্পানি আছে, তাদের থেকে মাসে মাসে টাকা কে তোলে? সব একজনই তোলে।’
অধিকারী পরিবারকেও আক্রমণ
মমতা বলেন, ‘আমি এদের আজ নয়। দীর্ঘদিন ধরে চিনি। আগে কংগ্রেস করত। তার আগে তিন-চার বার করে হেরেছে। আমি অনেক দিয়েছি এই পরিবারকে। আর পারব না দিতে। এখনও বিজেপির সাহায্যে দুধে ভাতে আছে। হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগ করে রেখেছে। কত টাকা ঠিক নেই। সব চেয়ে বড় গদ্দার, দুর্নীতিবাজ, স্বৈরাচারী, অত্যাচারী, ভোটকাটারি এই বিজেপি সরকার।’
অভিষেককে নিয়ে ঘোষণা
এদিন তৃণমূলনেত্রী আরও বলেন, 'আমি তো গাড়িতে লাল আলো, নীল আলো লাগাই না। পোঁ পোঁ বাজাই না। কারণ, আমি সাধারণ মানুষের মতো থাকতে চাই। তোমাদের এত অহঙ্কার, এক ভাই MP। তুমি MLA। আর এক ভাই MLA। পুরো পরিবারটাকে ঢেলে দিয়েছ। আমাদের পরিবারের এমএলএ ইলেকশনে আমি ছাড়া কেউ দাঁড়ায়নি। অভিষেককে রোজ গালাগালি দেয়। অভিষেককে লড়তে পারো না, আর আমাকে লড়বে! আগামী দিনে মেদিনীপুরের দায়িত্ব নিয়ে অভিষেকই কাজ করবে। আমি বলে গেলাম। আমি তো থাকবই।'
হলদিয়া থেকে নন্দীগ্রাম প্রসঙ্গে মমতা আরও বলেন, 'নন্দীগ্রামের মানুষ তোমাদের আগের বার ভোট দেয়নি। এখনও কোর্টে মামলা চলছে। মনে রেখো, অনেক ভাঙা মেশিন আছে। আমি চাইলেই মুখে ঝামা ঘষে দিতে পারতাম। কিন্তু ভবানীপুর থেকে ইলেক্টেড হওয়ার আর প্রেশার দিইনি। এ বারেরও লোডশেডিং করে দেবে, ছাপ্পা ভোট করে দেবে। নন্দীগ্রামেই ৪০ জনকে নোটিস পাঠিয়েছে এনআইএ। কেন বাবা? এই ছ’বছর কি তুমি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমোচ্ছিলে! আজ বলছ, এক হাজার তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করতে হবে।'