Mamata Banerjee: 'আমার পেটে লাথি, কাজের লোককে রেপ থ্রেট', অভিযোগ মমতার

ভোটগণনার দিন ভবানীপুরের কাউন্টিং স্টেশনের ভিতরে তাঁর সঙ্গে ‘শারীরিক নিগ্রহে’র (Physical Assault) অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী।

Advertisement
'আমার পেটে লাথি, কাজের লোককে রেপ থ্রেট', অভিযোগ মমতারমঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী।
হাইলাইটস
  • কাউন্টিং স্টেশনের ভিতরে তাঁর সঙ্গে ‘শারীরিক নিগ্রহে’র (Physical Assault) অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
  • মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী।
  • সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভোটগণনার দিন ভবানীপুরের কাউন্টিং স্টেশনের ভিতরে তাঁর সঙ্গে ‘শারীরিক নিগ্রহে’র (Physical Assault) অভিযোগ তুললেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিক বৈঠকে বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল নেত্রী। বলেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে গণনার পরিবেশ নিয়ন্ত্রণ করেছে। তাঁর অভিযোগ, কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করা হয়েছে, 17C ফর্ম কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এমনকি তাঁকেও ধাক্কা মেরে কাউন্টিং স্টেশন থেকে বের করে দেওয়া হয়।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের বিজেপির ঐতিহাসিক জয়। ঠিক তখনই সরাসরি নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতার দাবি, 'আমরা হারিনি। আমাদের ১০০টি আসন জোর করে লুঠ করা হয়েছে।' তাঁর অভিযোগ, গণনার শুরু থেকেই বিজেপির পক্ষে পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। তৃণমূল নেত্রীর কথায়, 'ভোটের কাউন্টিং হয় ১৪ থেকে ১৮ রাউন্ডে। কিন্তু প্রথমেই বিজেপির ভোট গোনা শুরু করা হয়। উদ্দেশ্য ছিল আমাদের কর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া।'

তিনি আরও বলেন, 'আমাদের আসল লড়াই বিজেপির সঙ্গে ছিল না। লড়াই ছিল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে। প্রথম কয়েক রাউন্ডের পরেই প্রচার শুরু হয় বিজেপি ১৯০-র বেশি আসনে এগিয়ে। তারপরই বিজেপি কর্মীরা কাউন্টিং সেন্টারে ঢুকে পড়ে।'

মমতার অভিযোগ, ভবানীপুরের কাউন্টিং সেন্টারে তৃণমূলের কাউন্টিং এজেন্টদের মারধর করা হয়। তাঁর দাবি, 'আমার পাঁচ রাউন্ড তখনও বাকি ছিল। সেই ওয়ার্ড আমার এবং ফিরহাদ হাকিমের এলাকা। সেখানে আমরা ৩২ হাজার ভোট পাওয়ার আশা করছিলাম। ঠিক তখনই বিজেপি প্রার্থী প্রায় ২০০ জন CRPF জওয়ান এবং বহিরাগতদের নিয়ে ভিতরে ঢোকে।'

তৃণমূল নেত্রীর অভিযোগ, মহিলাদেরও রেহাই দেওয়া হয়নি। 'ওরা 17C ফর্ম কেড়ে নেয়। খবর পেয়েই আমি সেখানে যাই। কিন্তু জগুবাবুর বাজার এলাকায় আমার গাড়ি আটকে দেওয়া হয়। আমি অন্য রাস্তা দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করি। তখনও আমাকে বলা হয়, ঢুকতে দেওয়া হবে না,' বলেন মমতা।

তিনি দাবি করেন, প্রার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাঁকে এবং তাঁর অফিসিয়াল এজেন্টদের প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়। 'আমি কয়েক মিনিটের জন্য ভিতরে ঢুকেছিলাম। তখন আমাকে পেটে লাথি মারা হয়, পিছন থেকেও লাথি মারা হয়। আমাকে শারীরিক নিগ্রহ করা হয়েছে। অপমান করা হয়েছে,' অভিযোগ মমতার।

Advertisement

তাঁর আরও দাবি, সেই সময় কাউন্টিং সেন্টারের CCTV বন্ধ ছিল। 'আমি নিজে CCTV ফুটেজ দেখেছি। ডেটা ব্যাঙ্ক এলাকায় বিজেপি প্রার্থী এবং তাঁদের লোকজন বসে ছিল। তারাই ডেটা অপারেট করছিল,' বলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

মমতার অভিযোগ, তাঁকে শেষ পর্যন্ত ধাক্কা মেরে কাউন্টিং স্টেশন থেকে বের করে দেওয়া হয়। 'একজন মহিলা হিসাবে নয়, একজন মানুষ হিসাবেও এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত অপমানজনক,' বলেন তিনি। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, শুধু তাঁর সঙ্গেই নয়, রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের উপর অত্যাচার চলছে।

তফসিলি জনজাতি সম্প্রদায়ের উপরও হামলার অভিযোগ তুলেছেন মমতা। তিনি জানান, 'আমার বাড়িতে একটি অল্পবয়সী মেয়ে কাজ করেন। তফসিলি ফ্যামিলি। তার পরিবারকে সারারাত ঘেরাও করে রাখা হয়েছে। তাদের একটি মেয়ে আছে, পুত্রবধু আছে, নববিবাহিত। তাকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার ৯২ বছরের ঠাকুমা অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁকে জলটুকু খেতে দেওয়া হয়নি।'

রাজ্যে ভোটের ফলাফলের পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। আপাতত পদত্যাগ করছেন না বলে জানিয়েছেন মমতা। বিষয়টি নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক লড়াই চালাবে তৃণমূল কংগ্রেস। 

POST A COMMENT
Advertisement