ভোটার স্লিপ নিয়ে কী দাবি মমতার?রাজ্যে প্রথম দফার ভোট শেষ। ৯২.৮৮ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছেন। তারপরই আবার ভোট প্রচার শুরু করে দিয়েছে যুযুধান সব পক্ষ। আর শুক্রবার তেমনই একাধিক জনসভায় গিয়ে ভোটার স্লিপ যত্ন করে রেখে দেওয়ার পরামর্শ দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুক্রবার হাওড়া, কলকাতা বন্দর ও নিজের কেন্দ্র ভবানীপুরে ভোটপ্রচার সেরেছেন মমতা। সেখানেই তিনি জনসভায় সাধারণ মানুষকে ভোটার স্লিপ যত্নে রাখার পরামর্শ দেন।
এই প্রসঙ্গ নিয়ে তিনি বলেন, 'ভোটার স্লিপগুলি যত্ন করে রেখে দিতে হবে। এটাই প্রমাণ যে আপনি ভোট দিয়েছেন। ওরা (বিজেপি) যদি এনআরসি করতে চায়, তাহলে এই ভোটার স্লিপ দেখিয়ে আপনি বলতে পারবেন যে ভোট দিয়েছিলেন।'
অর্থাৎ মমতার বার্তা পরিষ্কার। তিনি ভোটারদের বোঝাতে চাইলেন যে এনআরসি করতে পারে বিজেপি। সেখানে কাজে লাগতে পারে এই ভোটার স্লিপ। এই স্লিপ দেখালে এনআরসি থেকে বাঁচা সম্ভব।
এই রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প
ভোট প্রচারের প্রথম থেকেই এনআরসি প্রসঙ্গ তুলে আনছেন মমতা। পাশাপাশি অভয় দিচ্ছেন যে এ রাজ্যে ডিটেনশন ক্যাম্প হবে না। আর সেই ট্রেন্ড মেনে শুক্রবারের সভাতেও একই আশ্বাস দিলেন। তিনি বলেন, 'আমি থাকতে এই রাজ্যে এনআরসি করতে পারবে না। আমি ডিটেনশন ক্যাম্পও বানাতে দেব না।'
তৃণমূল কর্মীদেরও একই দাবি...
তবে শুধু তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী নন। বরং ছোটবড় নেতাকর্মীদের মুখেও ভোটার স্লিপ নিয়ে একই বার্তা শোনা যাচ্ছে বলে খবর। তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাধারণ মানুষকে ভোটার স্লিপ রেখে দিতে বলেছেন। তাঁদের মুখেও একই বার্তা, 'এই স্লিপ যত্ন করে রেখে দিন। এটা জেরক্স করেও রেখে দিতে পারেন। পরে এনআরসি হলে কাজে দেবে।'
যদিও বিজেপির পক্ষ থেকে এই দাবি সম্পূর্ণ উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গেরুয়া বাহিনীর মতে, প্রথম দফার ভোটের পর নিজের হার বুঝে গিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। তাই মানুষকে বিভ্রান্ত করতে এই সব এনআরসি-এর ভয় দেখান হচ্ছে। যদিও বিষয়টা একবারেই তেমন নয়।
পুনর্নির্বাচন নয়
এবার প্রথম দফার বাংলার নির্বাচন নিয়ে খুশি নির্বাচন কমিশন। তাদের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোনও পোলিং বুথেই আবার ভোট করার প্রয়োজন নেই। রেকর্ড সংখ্যক মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিয়েছেন। শান্তিতেই হয়েছে ভোট। তাই কোনও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।