মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাশেম সিদ্দিকিআমডাঙায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই কর্মী, সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দিয়েছিল। সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যেও চলে এসেছিল। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীরা চেয়েছিলেন, বিদায়ী বিধায়ক রফিকুর রহমানকেই প্রার্থী করা হোক। তাঁর জায়গায় কাশেম সিদ্দিকে প্রার্থী করায় ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন রফিকুর নিজেও। এবার আমডাঙায় সভা করে সেই ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টাই করলেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। পাশাপাশি জানিয়ে দিলেন দরগার অনুরোধেই কাশেম সিদ্দিকিকে প্রার্থী করা হয়েছে।
রফিকুর রহমানকে সম্মান দেব
রফিকুর রহমানকে এবারের বিধানসভা ভোটে দাঁড় না করালেও, তাঁকে অন্য কাজে লাগানো হবে বলে জানিয়ে দিলেন মমতা। তিনি বলেন, 'রফিকুরকে আমরা আরও ভাল কাজে লাগাবো। কাশেমকে ভোট দিন। ও ভাল ছেলে। ও সেক্যুলার ছেলে, আমাকে অনুরোধ করেছিল। প্রথমবার আমাকে ওই ফুরফুরা শরিফ নিয়ে গিয়েছিল। দরগার অনুরোধে ওকে প্রার্থী করেছি।' যদিও দরগা বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চাইলেন তা খোলসা করেননি। পাশাপাশি প্রার্থী হওয়ার জন্য কাশেম যে অনুরোধ করেছিলেন তা স্পষ্ট হলেও, দরগার কে তাঁকে অনুরোধ করেছিলেন সেটাও এড়িয়েই গেলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
বিদায়ী বিধায়ক রফিকুরের প্রশংসা করেছেন মমতা। তিনি বলেন, 'আমি রফিকুরকে যোগ্য সম্মান দিয়ে অন্য কাজে লাগাবো। সবাই একসঙ্গে কাজ করবে।'
প্রবল গোষ্ঠী কোন্দল আমডাঙায়
একমাস আগেও দুই গোষ্ঠীর বিবাদ হাতাহাতি অবধি গড়িয়ে গিয়েছিল। প্রকাশ্যে একে অপরের দিকে কাদা ছোড়াছুড়ি, রাস্তা অবরোধ, মাইক কেড়ে নেওয়া সবটাই হয়েছিল। কাশেম সিদ্দিকি ফুরফুরা শরিফের বাসিন্দা হওয়ায়, আমডাঙার মানুষের দুঃখ কষ্ট তিনি বুঝতে পারবেন না। মানুষকে পরিষেবা পেতে হলে ফুরফুরা শরিফে যেতে হবে। এতে হয়রানির শিকার হতে হবে সাধারণ মানুষকে। এমনটাই দাবি ছিল বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর।
বামফ্রন্ট সমর্থিত আইএসএফ প্রার্থী বিশ্বজিৎ মাইতিও বহিরাগত ইস্যুতে কাশেম সিদ্দিকিকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি। আসরে নামতে হয় সদ্য সিপিএম থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া প্রতিকুর রহমানকে। নওশাদ সিদ্দিকির উদাহরন তুলে ধরে তিনি বলেন, 'ও বিশ্বজিৎ দা ভুল বলছেন কেন? নওশাদ সিদ্দিকি তো ভাঙড়ের মানুষ নন। তিনি বিধায়ক। তা হলে কি ভাঙড়ের মানুষকে ফুরফুরা যেতে হয়?' ফলে, খুব স্বাভাবিক ভাবেই ভোট যত এগিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হচ্ছে রাজনৈতিক ময়দান। এর মধ্যেই তৃণমূল দলনেত্রীর একসঙ্গে লড়াই করার বার্তা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ।