মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মনোজ আগরওয়াল ভোটগণনার কয়েক ঘণ্টা আগে রবিবার মধ্যরাত ১টা নাগাদ একটি এক্স পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আশঙ্কা প্রকাশ করেন বাংলার দিকে দিকে লোডশেডিংয়ের। যার জেরে গণনায় কারচুপির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। সেই নিয়ে এবার জবাব দিলেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার।
কী আশঙ্কা মমতার?
তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের রাত জেগে স্ট্রংরুম পাহারা দেওয়ার ডাক দিয়েছিলেন তিনি। তার মাঝেই মধ্যরাতে একটি এক্স পোস্টে মমতা লেখেন, 'বিভিন্ন জায়গায় পরিকল্পিত ভাবে লোডশেডিং করে দেওয়া হচ্ছে। কলকাতার ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র থেকে শুরু করে হুগলির শ্রীরামপুর, নদিয়ার কৃষ্ণনগর, পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রাম থেকে এই ধরনের অভিযোগ উঠে আসছে। এই সব জায়গা থেকে দফায় দফায় লোডশেডিং, সিসিটিভি বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। স্ট্রংরুমে গাড়ি যাতায়াত করছে।' তিনি আরও বলেন, 'কোথাও কোনও সন্দেহজনক পরিস্থিতি কেউ সৃষ্টি করলে, তাদের ঘিরে ধরুন। সঙ্গে সঙ্গে অভিযোগ করুন এবং সিসিটিভি ফুটেজ দাবি করুন। এই সমস্তটাই BJP-র অঙ্গুলিহেলনে করা হচ্ছে।'
মনোজ আগরওয়ার কী জবাব দিলেন?
সোমবার সকালে ভোটগণনা শুরুর আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অভিযোগ প্রসঙ্গে CEO মনোজ আগরওয়াল বলেন, 'লোডশেডিংয়ের বিষয়টা নির্বাচন কমিশনের হাতে নেই। এটা রাজ্যের বিদ্যুৎ দফতরের অধীনে। আমি তাদের অনুরোধ করেছি যাতে ভোটগণনার সময়ে নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে বিদ্যুৎ পরিষেবা অব্যাহত থাকে। জেনারেটারেরও ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আশা করব, কোনও সমস্যা হবে না।'
স্পর্শকাতর বুথ প্রসঙ্গে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বলেন, 'প্রত্যেক গণনাকেন্দ্রে একইরকম বন্দোবস্ত করা হয়েছে। কোনও গণনাকেন্দ্রই স্পর্শকাতর বা কম স্পর্শকাতর নয়। প্রতিটি গণনাকেন্দ্রেই ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা রয়েছে। এছাড়াও নিরাপত্তার দায়িত্ব রয়েছে CAPF, সশস্ত্র পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশ।' বিজয় মিছিল করা যাবে কি না, তা জেলা নির্বাচনী আধিকারিকরা সিদ্ধান্ত নেবেন বলে উল্লেখ করেন মনোজ আগরওয়াল।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে হাইভোল্টেজ নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনার পরও লোডশেডিংয়ের অভিযোগ তুলেছিল শাসক শিবির। সে বার শুভেন্দু অধিকারী ১৯৫৬ ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছিলেন।