মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়'আমরা যখন প্রথম জিতেছিলাম, আমি বলেছিলাম কারও ওপর যেন কোনও অত্যাচার না হয়। বদলা নয়, বদল চাই। সিপিআইএম-এর একটা পার্টি অফিসেও হাত দিইনি। আমরা কোনও অত্যাচার করিনি। শুধু রবীন্দ্র গীতি ও নজরুল গীতি চালিয়েছি। কিন্তু শেষ ৩ দিন আমাদের উপর আক্রমণ হয়েছে।', মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সামনে এসে এমনটাই দাবি বললেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, হারের পর থেকেই বিজেপি অত্যাচার করছে। সব জায়গাতে আক্রমণ হচ্ছে। গুন্ডাদের সঙ্গে নিয়ে হামলা চলছে। পুলিশ কাজ করছে না।
এখানেই শেষ না করে তিনি বলেন, 'আমি জীবনে এমন কোনও নির্বাচন দেখিনি। আমি কলেজের সময় থেকেই ইলেকশন দেখছি। ২০০৪ সালে যখন আমি একা, তখনও এমনটা দেখিনি। ৭২-এর সন্ত্রাসের কথা শুনেছি। তবে সেটা চোখে দেখিনি। বলতে পারব না। এই সন্ত্রাস সব কিছুকে ছাপিয়ে গিয়েছে।'
যদিও মমতার এই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিলেন দমদমের সিপিআইএম প্রার্থী তথা প্রাক্তন এসএফআই নেতা ময়ূখ বিশ্বাস। তিনি বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যে কথা বলার সব প্যারামিটার ভেঙে দিয়েছেন। ওই পরিবর্তনের এক রাতে হাজার হাজার কর্মী ঘরছাড়া হয়ে যায়। কাউকে কাউকে ভিন রাজ্যে পালিয়ে যেতে হয়। পার্টি অফিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। নির্মম অত্যাচার চলে।' কিন্তু বামেরা যখন ১৯৭৭ সালে ক্ষমতায় আসে, তখন এমন কিছু ঘটেনি বলে দাবি করলেন তিনি।
ইন্ডিয়া ব্লক নিয়ে কী দাবি মমতার?
এ দিন তিনি ইন্ডিয়া ব্লকের নেতাদেরও ধন্যবাদ দিলেন মমতা। তিনি জানালেন, রাহুল গান্ধী ও সনিয়া গান্ধী ফোন করেছিলেন। এমনকী অরবিন্দ কেজরিয়াল, তেজস্বী যাদব, অখিলেখ যাদব এবং হেমন্ত সোরেন তাঁকে ফোন করেছিল। তাঁরা প্রত্যেকেই পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানালেন মমতা। এছাড়া এখন থেকে তিনি ইন্ডিয়া ব্লককে শক্ত করার কাজটাও করে যাবেন বলে ঘোষণা করে দিলেন তিনি।
এখানেই শেষ না করে তিনি বলেন, 'অখিলেশ আজই আসতে চেয়েছিল। আমি বললাম না আজ নয়। অখিলেশ আগামিকাল আসছে। একে একে সবাই আসবে।'
মমতা জানালেন, তাঁর কাছে কোনও কাজ নেই। এখন তিনি মুক্ত। তাই ইন্ডিয়া ব্লকের শক্তি বাড়ানোর কাজ করবেন তিনি।
হার নিয়ে কী দাবি?
আজ মমতা বলেন,'আমি তো হারিনি, পদত্যাগ করতে যাব কেন?' তাঁর দাবি, ১০০ আসন লুট করেছে BJP। এখানেই শেষ না করে তাঁর সংযোজন, 'জোর করে দখল করে কেউ যদি মনে করেন, আমি পদত্যাগ করতে যাব, তা হবে না। নো, নট দ্যাট।'
এ দিন সাংবাদিক বৈঠকের শুরু থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি বিষয়ে অনড় ছিলেন। তিনি বারবার বলেন, 'আমরা হারিনি। জোর করে আমাদের হারানো হয়েছে। ১০০ আসন লুট করা হয়েছে।' এমনকী, মমতা এ কথাও বলেন, 'আমরা তো BJP-র বিরুদ্ধে লড়িনি। আমাদের লড়তে হয়েছে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে। ওরাই এই নির্বাচনের ভিলেন।'