মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দেবাশিস কুমার।-ফাইল ছবিশুক্রবার ভোরের আলো ফুটতেই কলকাতার মনোহরপুকুর রোডে তৃণমূল নেতা দেবাশিস কুমারের বাড়িতে পৌঁছে যান আয়কর দফতরের আধিকারিকেরা। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি অভিযান। শুধু তাঁর বাসভবনই নয়, একইসঙ্গে নজরে রাখা হয় তাঁর নির্বাচনী কার্যালয়ও। দু’টি জায়গাতেই একযোগে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশি চলাকালীন কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে আগে থেকেই সতর্ক ছিল প্রশাসন। এলাকায় মোতায়েন করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান। বাড়ির ভেতরেই ছিলেন রাসবিহারীর তৃণমূল প্রার্থী, বাইরে সংবাদমাধ্যমের ভিড় থাকলেও কাউকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপও চড়েছে। কোচবিহারের রাসমেলা ময়দান থেকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, 'পার্টি অফিসে রেইড করছে, প্রার্থীর বাড়িতে রেইড করছে, নির্লজ্জ, বেহায়া একটা রাজনৈতিক দল।'
অন্যদিকে, দেবাশিস কুমারের বাড়ির সামনে জড়ো হন তৃণমূল কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, কোনও সুনির্দিষ্ট নথি ছাড়াই তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নির্বাচন সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করাই এই অভিযানের উদ্দেশ্য বলে দাবি তাঁদের। এমনকি কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথির ছবি তোলার অভিযোগও উঠেছে আয়কর আধিকারিকদের বিরুদ্ধে।
তবে ঠিক কী কারণে এই হানা, তা নিয়ে এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে কিছু জানানো হয়নি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, এর পিছনে পুরনো কোনও মামলার যোগ থাকতে পারে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরেই আরেক কেন্দ্রীয় সংস্থা ইডির নজরেও ছিলেন এই তৃণমূল নেতা। জমি দখল সংক্রান্ত একটি মামলায় তাঁকে একাধিকবার সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়। ১, ৩ এবং ৯ এপ্রিল, এই তিন দিনে তিনি তদন্তকারীদের সামনে হাজিরাও দেন। যদিও জিজ্ঞাসাবাদের পর সংবাদমাধ্যমের সামনে বিস্তারিত কিছু বলেননি, কেবল জানিয়েছেন, দলই এ বিষয়ে বক্তব্য রাখবে।
নির্বাচনের মুখে কেন্দ্রীয় সংস্থার এই তৎপরতা ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। বিরোধীদের দাবি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ হিসেবেই এই অভিযান। পাল্টা তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারে প্রার্থীকে চাপে ফেলতেই কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে।
যদিও দেবাশিস কুমার আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, এই তদন্ত বা তলব তাঁর নির্বাচনী প্রচারে কোনও প্রভাব ফেলবে না। এখন দেখার, আয়কর দফতরের এই তল্লাশি থেকে শেষ পর্যন্ত কী তথ্য সামনে আসে।