EVM সেন্টারের বাইরে ভোররাতে ছুটে গেলেন বায়রন বিশ্বাসবাংলায় প্রথম দফা নির্বাচন হয়েছে গত বৃহস্পতিবার। তবে ঝামেলা-অশান্তি এখনই যে শেষ হওয়ার নয় তা স্পষ্ট। আগামী ৪ মে ফলপ্রকাশের পর বোঝা যাবে পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে। তবে তার আগেই শনিবার ভোরবেলা ব্যাপক চাঞ্চল্য মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুরে। এদিন ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজের ইভিএম স্ট্রংরুমের সামনে গিয়ে ব্যাপক হাঙ্গামা করার অভিযোগ উঠল সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক বায়রন বিশ্বাসের বিরুদ্ধে।
তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে শেষ রাতে ইভিএম স্ট্রংরুমের বাইরে গিয়ে পুলিশ আধিকারিকদের গালিগালাজ ও মৌখিক আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। জানা গিয়েছে, ফারাক্কা, শামশেরগঞ্জ, সুতি, রঘুনাথগঞ্জ, জঙ্গিপুর এবং সাগরদিঘি বিধানসভা কেন্দ্রের EVM স্ট্রংরুম করা হয়েছে জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে। সেখানেই গিয়েই ঝামেলা পাকানোর অভিযোগ উঠেছে বায়রনের বিরুদ্ধে।
কেন জঙ্গিপুর পলিটেকনিক কলেজে গিয়েছেন বায়রন বিশ্বাস?
তৃণমূল প্রার্থী বায়রন বিশ্বাসের অভিযোগ, রাত প্রায় ১০টার দিকে তিনি স্ট্রংরুম পরিদর্শনে গিয়ে দেখেন, ভেতরে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো থাকলেও, সেগুলো পর্যবেক্ষণের জন্য বাইরে কোনও স্ক্রিন নেই। বিষয়টি জঙ্গিপুর মহকুমা আধিকারিকদের নজরে আনলে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে পর্যবেক্ষণের জন্য স্ক্রিনও বসিয়ে দেয়।
কিন্তু এরপরেই ঘটে আসল গণ্ডগোল। বায়রন বিশ্বাস দাবি করেন, রাতে দফায় দফায় CCTV বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তৃণমূল নেতার অভিযোগ, রাত ১২টার দিকে এবং আবার রাত ১টার দিকে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো অল্প সময়ের জন্য কাজ করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এই বিষয়ে ভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এরপর ভোর ৪টে নাগাদ ক্যাম্পাসে ফেরেন বায়রন এবং স্ট্রংরুমে ঢোকার অনুমতি চাইতে থাকেন।
কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী কেন্দ্রীয় বাহিনী ও রাজ্য পুলিশ তৃণমূল নেতাকে ভেতরে ঢুকতে দেয়নি। অভিযোগ গেটের বাইরে দাঁড়িয়েই রাজ্য পুলিশকে গালিগালাজ করা হয়। তৃণমূল নেতার সঙ্গে থাকা লোকেরা দীর্ঘক্ষণ ধরে হট্টগোল চালিয়ে যায় বলে দাবি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আধিকারিকরাও সতর্কতা বাড়িয়ে দেন। কিছুক্ষণ পর ওই এলাকা থেকে ফিরে আসেন বায়রন বিশ্বাস।