নদিয়ায় বাদ 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাওয়া আড়াই লাখ মহিলার নাম, ‘পরিকল্পিত’, অভিযোগ তৃণমূলের

নদিয়ায় মোট ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মহিলা ভোটার রয়েছেন ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৭৭ জন, আর পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ১৪ হাজার। অর্থাৎ, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি।

Advertisement
নদিয়ায় বাদ 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' পাওয়া আড়াই লাখ মহিলার নাম, ‘পরিকল্পিত’, অভিযোগ তৃণমূলেরফাইল ছবি
হাইলাইটস
  • নদিয়া জেলায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক।
  • বিশেষ করে মহিলাদের নাম বাদ পড়ার সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল।

নদিয়া জেলায় ভোটার তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়াকে ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। বিশেষ করে মহিলাদের নাম বাদ পড়ার সংখ্যা পুরুষদের তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে শাসক দল।

সাম্প্রতিক সংশোধিত তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৪ লক্ষ ৬৩ হাজার ৯৫৬ জন ভোটারের নাম বাদ পড়েছে। এর মধ্যে মহিলা ভোটার রয়েছেন ২ লক্ষ ৪৯ হাজার ৯৭৭ জন, আর পুরুষ ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২ লক্ষ ১৪ হাজার। অর্থাৎ, বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে মহিলাদের সংখ্যাই বেশি।

এই পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগের আশঙ্কার কথাই সামনে আনছে তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের অভিযোগ, মহিলাদের স্বনির্ভর করতে চালু হওয়া ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা মূলত শাসক দলের প্রতি আস্থাশীল। সেই কারণেই পরিকল্পিতভাবে মহিলাদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাঁদের।

উল্লেখযোগ্যভাবে, এত বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়ায় নদিয়ার মোট ভোটার সংখ্যা কমে গিয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৯ লক্ষ ৫৪ হাজার ৮৮২-এ, যা প্রায় ২০১৬ সালের ভোটার সংখ্যার কাছাকাছি। এক দশক পরে এই হ্রাস রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, গত বছরের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে শুরু হয়েছিল এসআইআর প্রক্রিয়া। ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত তালিকায় মোট ভোটার ছিলেন ৪৪ লক্ষ ১৮ হাজার ৮৩৮ জন। কিন্তু ডিসেম্বরের খসড়া তালিকাতেই মহিলা ভোটারের সংখ্যা কমে যায় প্রায় ১ লক্ষ ২৩ হাজারেরও বেশি।

তৃণমূলের অভিযোগ, এরপর ‘আনম্যাপড’ ও ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র মতো কারণে বহু ভোটারের নাম নিয়ে শুনানি শুরু হয়। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিবাহের পর পদবি পরিবর্তন বা বাপের বাড়ির সঙ্গে নথিগত সংযোগ প্রমাণ করতে না পারার কারণে মহিলারা সমস্যায় পড়ছেন। ফলে বহু বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে।

ফেব্রুয়ারিতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর এই সমস্যায় পড়া ভোটারদের অনেকেই বিচারাধীন প্রক্রিয়ায় চলে যান। এরপর একাধিক সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করা হলে আরও বহু নাম বাদ পড়ে। রানাঘাট দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পশ্চিম ও নাকাশিপাড়ার মতো একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে হাজার হাজার মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ গেছে।

Advertisement


 

POST A COMMENT
Advertisement